বিজ্ঞাপন
এই অধ্যাদেশের ফলে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং নতুন করে কোনো আইনি কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই ঐতিহাসিক অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়াটি অনুমোদন পেয়েছিল।
অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্র-জনতা এক সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়। তৎকালীন সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ করতে আত্মরক্ষাসহ জনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রতিরোধে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দেওয়া আবশ্যক বলে সরকার মনে করে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়, তবে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকার নিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করা যাবে। আবেদন দাখিলের পর আদালত ওই মামলার কার্যক্রম আর এগোতে পারবেন না। অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন এবং মামলাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাহার হয়েছে বলে গণ্য হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে কোনো হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করতে হবে। তবে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী, যদি নিহতের তালিকায় পুলিশ বা কোনো শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকেন, তবে ওই বাহিনীর বর্তমান বা সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। তদন্তের স্বার্থে কাউকে গ্রেপ্তারের প্রয়োজন হলে কমিশনের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো অভিযোগ কেবল বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তবে আদালত তা পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে, যদি দেখা যায় অভিযোগে উল্লিখিত কাজটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তবে কমিশন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে। এক্ষেত্রে আদালতে কোনো নতুন মামলা বা আইনি কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না।
সরকার জানিয়েছে, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনে যেকোনো সময় নতুন বিধি প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। এই পদক্ষেপের ফলে জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আইনি হয়রানির পথ চিরতরে বন্ধ হলো।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...