Logo Logo

পরিকল্পিতভাবে সাতক্ষীরাকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে.......সাতক্ষীরায় জামাতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান


Splash Image

১৫ সালে আমি সাতক্ষীরাতে এসেছিলাম। সাতক্ষীরা ৬ টা উপজেলা মটর সাইকেলে ঘুরে ঘুরে দেখার চেষ্টা করেছিলাম। আমি সেদিন সাতক্ষীরায় পর্যটনের জন্য আসিনি।


বিজ্ঞাপন


এসেছিলাম দেশপ্রেমিক ইমানদারদের ৪৮ জন মানুষকে খুন করা হয়েছিল শহীদ করা হয়েছিল,তাদের মা বাবার পাশে দাঁড়াতে এসেছিলাম। যে যুবতী বোনদের বিধবা করা হয়েছিল তার প্রতি সম্মুখে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলাম। যে কচি শিশুরা বাপ হারিয়ে অন্ধকার দেখছিল তারা চেয়ে চেয়ে পথের পানে থাকতো কখন আমার বাবা আসবে, আমি তাদের চোখের পানি দেখতে এসেছিলাম। আজ দুপুর সাড়ে বার টায় সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামাতের আমির ডা: শফিকুর রহমান।

আমির বলেন, যে সমস্ত যুবকদের ধরে নিয়ে পা হাত কেটে নেয়া হয়েছিল আমি তাদের কষ্টের অংশীদার হতে এসেছিলাম। সেদিন মায়েদের বোনেদের শিশুদের মুখে আমি যে কষ্টের ছাপ দেখেছিলাম জীবনে ভুলতে পারবো না। তাদের চোখে সেদিন পানি দেখি নাই, হারিয়ে যাওয়া আপনজনদের চোখে রক্তের ফোঁটা দেখেছিলাম। তালার দুটি বাচ্চা রোকেয়া এবং রোকাইয়া ওরা দেয়ালের ছবি দেখে বলেছিল এটা আমার বাবা, আমরা দুইজন বয়স্ক মানুষ এসেছিলাম, ওই বাচ্চা দুজনকে বলছিলাম আমরা দুজন তোমার দাদা হলে কেমন হয়, না দুইজন দাদা হতে পারবেন না। একজন দাদা হবেন একজন নানা। বাবাকে তো আর ফেরত দিতে পারবেন না। কিছু সংখ্যক মা বলেছিল আমার সন্তানের কি দোষ ওরা মানলো কেন? আমি বলেছিলাম আপনার সন্তানের দোষের জবাব আল্লাহ দিয়েছে।

বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপরাধ করা হয়েছে সাতক্ষীরায়। একটি সিঙ্গেল জেলায় কোথাও এত সংখ্যক মানুষকে হত্যা করা হয়নি।

শহীদের এই রক্তে মাখা ছয়টি উপজেলা যখন ঘুরছিলাম, তখন আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম রাস্তাঘাটের এই অবস্থা কেন? সরকার এই দেশের অংশ এটাকে স্বীকার করে না। আমাদের ওপর ঝাল মেটাচ্ছে কেন সাতক্ষীরার মানুষ ন্যায়, ইনসাফ ও ইসলামের কথা বলে, এজন্য তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এখানে কোন উন্নয়ন করবে না। দিন যায় রাত পোহায়, সপ্তাহ যায়, মাস যায় বছর গড়ায়, মানুষ হয়তো মনে করে আমি হয়তো মরবো না।

তিনি বলেন,আমরা বড় মজলুম দল, এই একটা জেলা, বাড়তি জুলুম করা হয়েছে। আমাদের নেতৃবৃন্দদের গুম করা হয়েছে খুন করা হয়েছে অফিস রুমে তালা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নিবন্ধন কেড়ে নেয়া হয়েছে প্রতিক নিয়ে নেয়া হয়েছে, শেষ পর্যন্ত দিশেহারা হয়ে আমাদেরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অসংখ্য মানুষকে খুন করেছে গুম করেছে। এই গুম করে তারা দীর্ঘদিন আয়না ঘরে রেখেছিল। কিন্তু একটা জিনিস যেটা স্বার্থের সাথে করা হয়েছে সেটা বাংলাদেশের আর কোথাও করা হয় নাই, একটা হচ্ছে বুলডোজার দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে।

আগেই বলেছি সাতক্ষীরা মানুষের অপরাধ ন্যায় ইনসাফ ও ইসলামের পক্ষে কথা বলা। আমরা বলে দিলাম দুঃখ—বেদনা যন্ত্রনা যাই থাকুক আমরা কারোর উপরে প্রতিশোধ নিবো না।

সারা সারা বাংলাদেশে আমাদের যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে গুম খুনের মাধ্যমে, মা বোনেদের দফায় দফায় জেলে নিয়ে,রিমান্ডে নিয়ে কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে এমনকি মা—বোনদের গুলিও করা হয়েছে। কিন্তু আমরা ধৈর্য ধরলাম কিসের জন্য এই দেশের জন্য। এই দেশকে ভালবাসি এই দেশের মানুষকে ভালবাসি।

তিনি আরো বলেন, আগামী ১২ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দুটি ভোট আমরা দিব। বাংলাদেশের জনগণের স্রোত তৈরি হয়েছে ন্যায় এবং ইনসাফের পক্ষে পরিবর্তনের পক্ষে, বাস্তবতা রাজনীতির বিপক্ষে, দুর্নীতির বিপক্ষে, ফ্যাসিবাদীর বিপক্ষে, জুলুম তান্ত্রিকের বিপক্ষে, মা বোনদের বেইজ্জত করার বিপক্ষে, ইজ্জত দেওয়ার পক্ষে। কিছু মানুষ এই অবস্থা দেখে মাথা গরম হয়ে গেছে। আরে ভাই মাঘ মাসে এত গরম হলে চৈত্র মাসে কি করবা তোমরা। ঠান্ডা থাকো বাংলাদেশের যুবকেরা জানিয়ে দিয়েছে রায় দিয়ে আমরা ইনসাফের সাথে আছি। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশের সাথে আছি। সংস্কার যারা জানে প্রাণে চাইবে আমরা তাদের সাথে আছি। তিলে তিলে জ্বলে জ্বলে দেশ প্রেমের কঠিন পরীক্ষা দিয়ে, অন্যায় এবং আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত না করে, নিজ দলের দায়িত্বশীল নেতারা যে যখন হাসিমুখে ফাঁসির কাস্টে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই দলকে আপনি ভাই ভয় দেখাবেন না।

কিছু লীগ তারা আমাদের মায়ের ইজ্জতের উপরে হাত দিয়েছেন। আমরা তোমাদেরকে অনুরোধ করছি তোমরা তোমাদের মায়েদেরকে সম্মান করতে শেখো। যারা নিজের মাকে সম্মান করতে পারে তারা গোটা জাতির সম্মান করতে পারে। আর যারা নিজের পরিবারের মায়ের সম্মান করতে জানে না, তারা অন্য মাকেও সম্মান করতে পারবে না। আমরা তাদেরকে অনুরোধ করি ফিরে এসো অপকর্ম করবানা। মনে রাখবা আমাদের জীবনের চেয়ে আমাদের মাদের ইজ্জতের মূল্য আমাদের কাছে বেশি। সুতরাং কোথাও আমাদের মাদের সাথে অশালীন আচরণ করলে আমরা কাউকে ছেড়ে কথা বলবো না। বিশেষ করে যুবকদের প্রতি আমার অনুরোধ, কোন মায়ের ইজ্জতের এরকম তোমা কোন খবর পেলে, জান পরান দিয়ে সবাই মিলে হাজির হবা। এবং বলে দিবা উনি আমার মা। আমরা আমার মায়ের মত সমস্ত নারীদের সম্মান করি। তোমরা কেন হাত বাড়িয়েছো এর জবাব দিতে হবে। কোথাও ছেড়ে কথা বলবা না।

এই সময় তিনি হ্যা পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাতক্ষীরা চারটি আসনের ১০ দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...