বিজ্ঞাপন
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইরানে সরকারবিরোধী গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ দমনকালে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনে সামরিক হামলার পথও খোলা রয়েছে। এই আন্দোলনে বহু মানুষ আটক রয়েছেন, তাদের ভাগ্যও অনিশ্চিত।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বিমান শাখা এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জানিয়েছে, মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিমান দ্রুত মোতায়েন করা, বিভিন্ন ঘাঁটিতে ছড়িয়ে রাখা এবং দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধক্ষমতা বজায় রাখার সক্ষমতা প্রদর্শন করা। এছাড়া, এই মহড়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা এবং নমনীয় সামরিক প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হবে।
তবে মহড়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ, স্থান বা অংশগ্রহণকারী সামরিক সম্পদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ দেখা হচ্ছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরীতে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান এবং প্রায় ৫ হাজার নাবিক মোতায়েন করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে সুরক্ষা দেয়।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রনও অঞ্চলে পাঠিয়েছে। এই ইউনিট ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইরানের ওপর চালানো হামলায় অংশ নিয়েছিল। যুক্তরাজ্যও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতার অংশ হিসেবে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের “বড় আর্মাডা” রয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার চেয়েও বৃহৎ। তিনি একইসঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার কথাও উল্লেখ করেছেন এবং বলেন, “ইরান চুক্তি করতে চায়, তারা বহুবার যোগাযোগ করেছে।”
ইরানের মুদ্রা অবমূল্যায়নের কারণে ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে গণহত্যা বা গণফাঁসি হলে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে—এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে তিনি বলেন, হত্যা বন্ধ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, তবে প্রয়োজনে হামলার বিকল্প খোলা আছে। তার ভাষায়, “আমাদের বিশাল নৌবহর ওই দিকে যাচ্ছে, হয়তো ব্যবহারই করতে হবে না।”
মানবাধিকারভিত্তিক সংস্থাগুলোর দাবি, দমন-পীড়নে প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ইরান সরকার স্বীকার করেছে তিন হাজারের কিছু বেশি মৃত্যুর কথা। অন্য কিছু কর্মী গোষ্ঠী ৩০ হাজারের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করলেও সেন্সরশিপ ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা কঠিন।
সেন্টকম জানিয়েছে, এই মহড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হবে। বাহরাইনের সঙ্গে ড্রোন ভূপাতিত করার সক্ষমতা নিয়ে প্রতিরক্ষামূলক অনুশীলনও পরিকল্পিত হয়েছে।
তবে কিছু আঞ্চলিক মিত্র এই সামরিক তৎপরতায় অস্বস্তি প্রকাশ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না এবং তারা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে চায়।
মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, সব কার্যক্রম স্বাগতিক দেশের অনুমোদন ও বেসামরিক–সামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, যাতে নিরাপত্তা, নির্ভুলতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান বজায় থাকে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...