বিজ্ঞাপন
সরকারি বিধি অনুযায়ী, ডাকবাংলোতে শুধুমাত্র সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও রাষ্ট্রীয় কাজে নিয়োজিত অতিথিদের রাত্রীযাপনের অনুমতি রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, কেয়ারটেকার ধনো নিয়মিতভাবে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সাধারণ মানুষ ও বহিরাগতদের সেখানে থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি অত্যন্ত অগোছালো ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ডাকবাংলোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার পরিবর্তে এটিকে অনেকটা ব্যক্তিগত বসতবাড়ির মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলোর চারপাশে ধনোর ব্যক্তিগত ভ্যানগাড়ি রাখা এবং দিরাই বাজারে তার হকারি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার প্রমাণও মিলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী উপজেলার ডাকবাংলোগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে চললেও দিরাই ডাকবাংলো এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মচারী ধনো গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক সংসদ সদস্য ডা. জয়া সেন গুপ্তার আশীর্বাদে এই পদে নিয়োগ পান। এই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে যে, অর্থের বিনিময়ে তিনি বিভিন্ন এলাকার তরুণ-তরুণীদের কক্ষ ভাড়া দিয়ে থাকেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, কয়েক মাস আগে এক লন্ডনপ্রবাসীকে কক্ষ ভাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে অনৈতিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংস্থার চারজন কর্মীকেও টাকার বিনিময়ে সেখানে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি সম্পত্তি কীভাবে একজন কর্মচারীর ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত হয়? তারা দ্রুত তদন্তপূর্বক দোষী কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মচারী ধনোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকের পরিচয় শুনেই কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সাহা এ প্রসঙ্গে বলেন, “বিষয়টি আজই আমার নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...