বিজ্ঞাপন
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান রাত আড়াইটায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনের শুরু থেকেই জেলার বিভিন্ন আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিললেও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ আসনে বিএনপি প্রার্থীরাই জয় নিশ্চিত করেন।
আসনভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর), আসন নং ২৪৩ মোট ৮১টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী এম এ হান্নান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৬৮,০৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান মামুন (ঘোড়া) পেয়েছেন ৩৫,২২০ ভোট। গণভোটে: হ্যাঁ ৭২,২২৮, না ৪৯,৩৪২।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ), আসনের চমক দেখিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (হাঁস), তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবী (খেজুর গাছ) পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। গণভোটে: হ্যাঁ ৪১,০৮৭, না ২০,৪০১।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর), আসনের ১৯৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১,৩৩,৮০৪ ভোট। এনসিপির মো. আতাউল্লাহ (শাপলা কলি) পেয়েছেন ৩৬,৮৪০ ভোট। গণভোটে: হ্যাঁ ১৯,৫৬৮, না ৯,৬৪৪।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া), আসনের ১৩১টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফলে বিএনপি জোটের মুশফিকুর রহমান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১,৩৯,৮৪২ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর আতাউর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯১,৭৯৬ ভোট। গণভোটে: হ্যাঁ ১,৫০,০৩৬, না ৭১,২২৬।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর), আসনের ১৫৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির এম এ মান্নান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৮৫,৭৬৯ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন (ফুটবল) পেয়েছেন ৮৪,৭০৮ ভোট। মাত্র ১,০৬১ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। গণভোটে: হ্যাঁ ১,৬৬,৬৩৩, না ৫৭,৬৪৯।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর), আসনের ৯৯টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি জোটসমর্থিত জুনায়েদ সাকি (মাথাল) পেয়েছেন ৯৫,৩৪২ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর মো. মহসিন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৩৯,৯৭৬ ভোট।
গণভোটে: হ্যাঁ ১,০৯,৬০৩, না ২৪,০৬৫।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি ও তাদের জোটসমর্থিত প্রার্থীদের জয় দলটির সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিজয় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে অল্প ব্যবধানে জয় পায় বিএনপির প্রার্থী। অপর দিকে গণভোটের ফলাফলেও অধিকাংশ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ‘না’-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা গেছে।
নির্বাচন ঘিরে কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। তবে কয়েকটি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...