বিজ্ঞাপন
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল—চারদলীয় জোট সরকারের আমলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এহসানুল হক মিলন। সেই সময়ে নব্বইয়ের দশকের রেশ ধরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় নকল ছড়িয়ে পড়েছিল এক মহামারী বা ‘ভাইরাস’-এর মতো। পরীক্ষার্থীরা মোজার ভেতর, কলমের খোলসে, কোমরে বেঁধে কিংবা জ্যামিতি বক্সে করে অভিনব সব উপায়ে নকল নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করত। এমনকি কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবক ও বহিরাগতরা দেওয়াল টপকে বা ঢিল ছুড়ে নকল সরবরাহ করত, যা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য।
দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই ‘রোগ’ সারাতে মিলন ঘোষণা করেন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। তিনি নিজেই ছুটে যেতেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তার আসার খবরে মুহূর্তের মধ্যে ফাঁকা হয়ে যেত কেন্দ্রের আশপাশ। নকলের দায়ে তিনি শুধু শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করেননি, বরং দায়িত্বে অবহেলার কারণে শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিলেন এবং সতর্ক করেছিলেন—নকলে সহযোগিতা করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তার এই সাঁড়াশি অভিযানেই স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্যভাবে নকল কমে আসে এবং পরীক্ষার হলে শৃঙ্খলা ফিরে আসে।
ঝটিকা অভিযানের জন্য তিনি কখনো গাড়ি ব্যবহার করতেন, আবার কখনো দ্রুত প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছাতে ব্যবহার করতেন হেলিকপ্টার। সেই সময় হেলিকপ্টার ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক উঠলে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, "সরকারি টাকা নয়, হেলিকপ্টারের ভাড়া আমি নিজের পকেট থেকে দিই।" শিক্ষা খাতের সংস্কারে তার এই ব্যক্তিগত ত্যাগের বিষয়টি আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
আ ন ম এহসানুল হক মিলনের রাজনৈতিক জীবনও বেশ বর্ণাঢ্য। যুক্তরাষ্ট্রের আরামদায়ক নাগরিকত্ব ও জীবনযাপন ছেড়ে তিনি দেশে ফিরে যোগ দেন রাজনীতিতে এবং চাঁদপুরে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বিএনপির হয়ে প্রথম নির্বাচন করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
সামনে এপ্রিল মাসে এসএসসি পরীক্ষা। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা খাতের কিছু অস্থিরতা এবং প্রশ্নফাঁস বা নকলের শঙ্কা থেকে অভিভাবক ও সচেতন মহল আবারও এহসানুল হক মিলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোর কমেন্ট সেকশনে চোখ রাখলেই দেখা যায় সাধারণ মানুষের আকুতি।
নেটিজেনদের মতে, নির্বাচন পরবর্তী নতুন প্রেক্ষাপটে মানুষ প্রশাসনে এমন কাউকে দেখতে চায়, যার সততা এবং কঠোরতা পরীক্ষিত। আর সেই মানদণ্ডেই বারবার ফিরে আসছে আ ন ম এহসানুল হক মিলনের নাম। শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে তার সেই ‘ম্যাজিক’ বা কঠোর ভূমিকার কথাই স্মরণ করছে দেশের মানুষ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...