কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে।
বিজ্ঞাপন
হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে শনিবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রোববার দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এই বরেণ্য শিল্পীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
১৯৩৩ সালে সংগীতানুরাগী বিখ্যাত মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। মাত্র ৯ বছর বয়সে পেশাদার সংগীত জীবন শুরু করা এই শিল্পী ১৯৫০-এর দশকেই বলিউডে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেন। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের বিশাল ছায়ার নিচেও নিজের স্বকীয় গায়কী ঢঙে তিনি কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে কোটি শ্রোতাকে মাতিয়ে রেখেছিলেন।
শুরুতে চটুল ঘরানার গানের জন্য পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে 'উমরাও জান' ছবির গজলের মাধ্যমে তিনি নিজের বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। দীর্ঘ সংগীত জীবনে তিনি সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকা এবং দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। 'দিল চিজ কেয়া হ্যায়' ও 'মেরা কুছ সামান' গানের জন্য তার জাতীয় স্বীকৃতি সর্বজনবিদিত।
আধুনিক সংগীত নিয়ে ২০২৩ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, শেখার তৃষ্ণা মেটাতে তিনি ধ্রুপদী সংগীত বা ভিমসেন জোশীর গান শুনতেন। তবে সমসাময়িকদের মধ্যে রাহাত ফতেহ আলী খান ও সুনিধি চৌহানের কণ্ঠ তার পছন্দের ছিল।
ব্যক্তিগত জীবনে অনেক চড়াই-উতরাই পাড়ি দেওয়া এই শিল্পী ১৯৮০ সালে প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের (আর ডি বর্মণ) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মণের মৃত্যু পর্যন্ত তারা একসাথেই ছিলেন। জীবনের শেষ বছরগুলোতে নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন এই সংগীত সম্রাজ্ঞীর ছায়াসঙ্গী। আশা ভোঁসলের প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...