বিজ্ঞাপন
বিএডিসি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডোমার ও দেবীগঞ্জ খামার মিলিয়ে বর্তমানে মোট ৬০১ একর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে ২১১ একর জমিতে আউশ, ২০০ একর জমিতে সবুজ সার হিসেবে ধইঞ্চা এবং অবশিষ্টাংশে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, চলতি মৌসুমে এই খামার থেকে অন্তত ৩১৬ থেকে ৪০০ মেট্রিক টন উচ্চ ফলনশীল আউশ বীজ উৎপাদিত হবে, যা পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করে দেশব্যাপী আউশ চাষে ব্যাপক সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, অতীতে এই খামারে আলু উৎপাদনের পর বছরের একটি দীর্ঘ সময় জমিগুলো পুরোপুরি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকত। তবে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২০২১ সাল থেকে ধাপে ধাপে এসব পতিত জমিতে আউশ ধানের বীজ উৎপাদন শুরু হয়। গত পাঁচ বছরে এই খামার থেকে সফলভাবে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মানসম্মত আউশ বীজ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।
ডোমার বিএডিসি খামারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু তালেব মিঞা এই উদ্যোগের বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে বলেন, আলু তোলার পর জমিতে আউশ ধানের আবাদ করলে মাটির স্বাস্থ্য ও উর্বরতা ভালো থাকে এবং পরবর্তী ফসলে রোগবালাইয়ের প্রকোপ অনেকটাই কমে যায়। একই সাথে দেশের কৃষকরাও উন্নত ও মানসম্মত বীজ পান। তাছাড়া এই জাতের ধান মাত্র ১১২ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা সম্ভব হওয়ায়, একই জমিতে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে আমন, আলু, ভুট্টা, সরিষা ও বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষের চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়।
বর্তমানে এই বীজ উৎপাদন খামারে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। চারা রোপণ থেকে শুরু করে ধান কাটা, মাড়াই এবং ল্যাবরেটরিতে বীজ গ্রেডিং করার চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ যান্ত্রিক ও আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হচ্ছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের পাশাপাশি এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে স্থানীয় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামীণ শ্রমিকের নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
দেশের কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটকালীন প্রেক্ষাপটে স্বল্পমেয়াদি, কম সেচ সাশ্রয়ী ও খরাসহিষ্ণু আউশ ধানের বীজ উৎপাদনে ডোমার বিএডিসির এই সময়োপযোগী উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক খাদ্য ও বীজ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও টেকসই অবদান রাখবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...