Logo Logo

হলুদ চাষে আগ্রহ বেড়েছে নীলফামারীর কৃষকদের


Splash Image

নীলফামারীতে এ বছর মসলা জাতীয় ফসল হলুদের ব্যাপক চাষ হয়েছে। বর্তমান বাজারে হলুদের ভালো দাম থাকায় স্থানীয় চাষিদের মধ্যে এই কৃষিজাত পণ্যটি চাষে আগ্রহ লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়েছে। উপজেলার বন্যামুক্ত উঁচু এলাকা হিসেবে পরিচিত রামনগর, ইটাখোলা, কুন্দুপুকুর, পলাশবাড়ী, টুপামারী, লক্ষ্মীচাপ ও কচুকাটা সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে এবার বিস্তীর্ণ জমিতে হলুদের চাষ করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিশমুড়ী গ্রামের জাহানুর এবং কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের আজিনুর মিয়ার হলুদের বাগানসহ পুরো মাঠ সবুজ গাছে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় চাষিরা জানান, হলুদ চাষে পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে পারলে বিপুল লাভ করা সম্ভব। আর এই লাভজনক সম্ভাবনার কারণেই পুরো উপজেলায় হলুদ চাষের প্রতি কৃষকদের উদ্দীপনা বাড়ছে।

তবে এই সময়ে হলুদে কিছু রোগবালাইয়ের আশঙ্কা থাকে বলে চাষিরা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে হলুদ পচা রোগ, শ্বাসনালী বা কচিডগা পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে সুপরিকল্পিতভাবে নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। পাশাপাশ জমিতে যাতে কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে, সেজন্য দ্রুত পানি নিষ্কাশনের নালা তৈরি করা জরুরি। কৃষকদের মতে, রোগের প্রতিষেধক হিসেবে জমিতে দানা কোস্টার ও তরল টিল্ট ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা আরিফ ইসলাম জানান, হলুদ রোপণে উৎপাদন খরচ একেবারে সীমিত। বীজ ভেদে কাঠা প্রতি খরচ হয় মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এছাড়া ৭-৮ কেজি বীজ হলুদের মূল্য প্রায় ৫০০ টাকা। এর বিপরীতে কাঠা প্রতি উৎপাদন হয়ে থাকে ৫ থেকে ৭ মণ। বর্তমানে প্রকার ভেদে প্রতি মণ কাঁচা হলুদ ১৫০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী প্রতি কাঠা জমিতে চাষিদের সর্বনিম্ন ২৪০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০০০ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকছে। হলুদ চাষের সময়কাল সাধারণত নয় মাস।

হলুদের ঔষধি গুণাগুণ উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা আরও জানান, হলুদে ক্যানসার রোধক উপাদান রয়েছে। এটি মানুষের হজম প্রক্রিয়া ভালো করার পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, ত্বক মসৃণ রাখে, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করে এবং ফ্যাটি লিভার নিরাময়সহ রূপচর্চায় অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক আহমেদ জানান, গত বছর এই উপজেলায় ৩৮৫ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়েছিল। আর চলতি বছর চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৯০ হেক্টর জমি, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। উপজেলার কৃষকদের মধ্যে মসলা জাতীয় ফসলের আবাদের এই ইতিবাচক প্রবণতা দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...