Logo Logo

ফরিদপুরে ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ছেলে গ্রেফতার


Splash Image

ফরিদপুর শহরের নীলটুলী এলাকায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদকে (৭৫) লোহার শাবল দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে রফিকুল ইসলাম জনিকে (৪৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে গুরুতর আহত ওই ব্যবসায়ী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


মামলার অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নিজ বাসভবনের তৃতীয় তলার শয়নকক্ষে আব্দুর রশিদের ওপর এই হামলা চালানো হয়। তার ছেলে রফিকুল ইসলাম জনি আচমকা কক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করে লোহার ধারালো শাবল দিয়ে বাবার মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন। এতে তিনি মারাত্মক জখম হন এবং তার বাম হাত ভেঙে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্বরোচিত এই হামলার পর আব্দুর রশিদ ও তার স্ত্রীকে ওই কক্ষের ভেতর আটকে রেখে গ্যাস সিলিন্ডারের লাইন ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করেন।

উদ্ধারের পর গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুর রশিদকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবীণ এই ব্যবসায়ীর মাথায় অস্ত্রোপচার করে ২৫টি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিবিড় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ জানান, এই পরিকল্পিত হামলার পেছনে পরিবারের আরও কিছু ঘনিষ্ঠজনের ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এর আগেও প্রায় একই ধরনের একটি ঘটনায় জনির ছেলে নীরব শেখ তাকে আঘাত করার চেষ্টা চালিয়েছিল। সে সময় স্থানীয় জনতা নীরবকে হাতেনাতে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তবে পরবর্তীতে সে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পায়।

এদিকে স্থানীয়দের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে, অভিযুক্ত নীরব শেখ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নানামুখী কৌশলে অর্থ আদায় করে আসছিলেন। তবে এই চাঁদাবাজির বিষয়ে জেলা পুলিশের কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হত্যাকাণ্ড সংঘটনের চেষ্টার পর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম জনিকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী আব্দুর রশিদের শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়।

এই নৃশংস ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুরো নীলটুলী এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে আহত প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...