বিজ্ঞাপন
উপজেলার ৬ নম্বর লস্কর ইউনিয়নের বাইনতলা খেয়াঘাট থেকে খড়িয়া খালপাড় অভিমুখে পাইকগাছা জিসি–বাইনতলা বাজার–বগুড়ারচক–গিলাবাড়ি জিসি সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা ও উঁচুনিচু অংশ। কোথাও কোথাও মাটি সরে গিয়ে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি ও কাদা জমে গিয়ে যানবাহন চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও মৎস্যচাষিসহ হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি পরিবহনেও সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল জানান, দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতে গিয়ে মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
মাছ ব্যবসায়ী অভিজিৎ মন্ডল বলেন, আমাদের এলাকাটি চিংড়ি ঘের অধ্যুষিত এলাকা। এখানে প্রচুর চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ উৎপাদিত হয়। কিন্তু যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি অনুপযোগী হওয়ায় সময়মতো মৎস্য আড়তে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, যার ফলে মাছের ন্যায্য দাম থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।
সড়কের এমন বেহাল অবস্থা নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম সানা জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য তারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে যে চলতি বছরের মধ্যেই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তারা দ্রুত কাজ শুরুর প্রত্যাশা করছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাফিন শোয়েব জানান, খুলনা বিভাগীয় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) সড়কটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তালিকায় এটি ২ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুতই সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...