বিজ্ঞাপন
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরে এই খামারে ১২৭ কেজি রেণু পোনা, ১ হাজার ৩৯১ কেজি কার্প জাতীয় মাছের পোনা এবং ১ লাখ পাবদা মাছের পোনা উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। খামারের পুকুর ও হ্যাচারিতে নিবিড় তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গুণগত মানসম্পন্ন পোনা উৎপাদন করা হয়।
পরবর্তীতে উৎপাদিত ১২৭ কেজি রেণু ২ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ টাকায়, ১ হাজার ৩৯১ কেজি কার্পজাতীয় পোনা ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকায় এবং ১ লাখ পাবদা মাছের পোনা ২ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া খামারের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ফলমূল ও শাক-সবজি বিক্রি করে অতিরিক্ত আরও ২০ হাজার টাকা আয় হয়েছে। সব মিলিয়ে খামারের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮০০ টাকা।
গোপালগঞ্জ মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারের ব্যবস্থাপক তানজিলা আক্তার নিপা জানান, খামারের মোট আয়তন ১.৬২ হেক্টর, যেখানে ৮টি পুকুর ও ১টি হ্যাচারি রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি পুকুর পোনা মজুদের জন্য এবং অপর ৪টি পুকুর বছরজুড়ে ব্রুড মাছ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। ব্রুড মাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করে নিজস্ব হ্যাচারিতে প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ করে সঠিক সাইজের মানসম্মত পোনা উৎপাদন করা হয়ে থাকে। এখানে সরকার নির্ধারিত সাশ্রয়ী মূল্যে পোনা বিক্রি করায় স্থানীয় মৎস্য চাষিরা বিশেষভাবে লাভবান হচ্ছেন।
সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের অভিজ্ঞ মৎস্যচাষী হাবিবুল বাহার (৫৯) বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মাছ চাষ করছেন। এই সরকারি খামার থেকে পোনা সংগ্রহ করে চাষ করার ফলে উৎপাদন অত্যন্ত ভালো হয় এবং পোনা মারা যাওয়ার হারও অনেক কম। বছর শেষে মাছ আশানুরূপভাবে বড় হওয়ায় তিনি নিয়মিত লাভের মুখ দেখছেন।
একই উপজেলার কাজুলিয়া গ্রামের মৎস্যচাষী কামরুল ইসলাম খামারের পোনার গুণগত মানের প্রশংসা করে জানান, এখানকার পোনা কিনে কেউ কখনও প্রতারিত হননি। তবে চাষিদের মাঝে এই পোনার ব্যাপক চাহিদা থাকায় বর্তমান সরবরাহের তুলনায় উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। উৎপাদন বাড়ানো হলে জেলার মৎস্য চাষিরা আরও বেশি উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...