বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে শিক্ষকমণ্ডলীর উপস্থিতিতে সিনিয়ররা তাঁদের আপ্যায়ন ও ভালো ব্যবহার করলেও অনুষ্ঠান শেষে ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলেন। এরপর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে ভোলা রোডের একটি নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনে (বিটেক বিল্ডিং) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি ছোট ও গরম ঘরের ভেতর প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ জন নবীন শিক্ষার্থীকে পিটির মতো করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে তাঁদের তীব্র মানসিক নির্যাতন ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। পরিচয় দিতে গিয়ে এক ছাত্রী নার্ভাস হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং কয়েকজন ছাত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েন। মেয়েদের সাথে অত্যন্ত রুঢ় আচরণ করা হয় এবং বিকেল সাড়ে ৫টায় মেয়েদের ও সাড়ে ৬টায় ছেলেদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া বাসে চড়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং নবীনদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। সিনিয়ররা তাঁদের ওপর বিভিন্ন অপমানজনক মন্তব্য করেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখান। এই পুরো ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন ১২তম ব্যাচের ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর)।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ১৪তম ব্যাচের অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তৌফিক ওমর অপু জানান, তাঁরা শিক্ষকদের অনুমতি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট নবীন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছেন এবং খাবার বিতরণ করেছেন। এর বাইরে অন্য কোথাও বসার ঘটনা ঘটেনি এবং অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানানো।
একই ব্যাচের অপর অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জয় বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। নবীনদের নিয়ে তাঁরা ক্যাম্পাসের বাইরে কোথাও যাননি। শ্রেণিকক্ষেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই তাঁদের সাথে কথা বলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক সরদার কায়সার আহমেদ বলেন, বিষয়টির কিছু মৌখিক অভিযোগ আমরা পেয়েছি এবং জানার পর থেকেই এটি নিয়ে কাজ করছি। পুরো ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র্যাগিংয়ের বিষয়ে আইন বিভাগের অবস্থান একদম 'জিরো টলারেন্স'। ঘটনা ছোট হোক বা বড়, তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আগামী ২-১ কর্মদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। অতিসত্বর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে র্যাগিং মুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে ঘোষণা করতে গুরুত্ব সহকারে কাজ চলছে। র্যাগিং ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান জিরো টলারেন্স।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...