Logo Logo

জুলাই ২৪ থেকে জুলাই ২৬, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ববিতে হয়নি ছাত্রলীগের বিচার


Splash Image

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলা ও আন্দোলন প্রতিহতের অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ ও অনাস্থা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। জুলাই ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৬—দুই বছর পার হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক বা আইনি অগ্রগতি না হওয়ায় ক্যাম্পাসে এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে আন্দোলনে বাধা দেন, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান এবং আন্দোলন ভণ্ডুলের চেষ্টা করেন। আন্দোলনের পুরো সময়জুড়ে তারা প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১-এর নিচতলায় (গ্রাউন্ড ফ্লোর) আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৈঠকে বসলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন এবং তাদের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

এছাড়া ১ আগস্ট বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিতে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় হয়রানি, হেনস্তা, ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্দোলন বানচালের চেষ্টা ও সমন্বয়কদের গ্রেফতারে সহযোগিতার অভিযোগও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, এসব ঘটনার বিভিন্ন প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, হামলার সঙ্গে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন এখনও নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন এবং ক্যাম্পাসের আশপাশে চলাফেরা করছেন। তাদের ভাষ্য, যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে, তারা বিচারহীনভাবে পার পেয়ে যাওয়ায় শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে।

হামলায় আহত একাধিক শিক্ষার্থীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত আবুল খায়ের আরাফাতের নেতৃত্বে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে গণিত বিভাগের আবিদ হাসান (২০১৫-১৬), আইন বিভাগের মাহমুদুল হাসান তমাল (২০১৭-১৮), ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের আল সামাদ শান্ত ও খালেদ হাসান রুমি (২০১৭-১৮), অর্থনীতি বিভাগের সাইফ আহমেদ (২০১৭-১৮), বাংলা বিভাগের সাব্বির হোসেন ও রাকিবুল হাসান (২০১৮-১৯), এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শরীফুল ইসলাম (২০১৮-১৯)-এর বিরুদ্ধে।

এছাড়া মার্কেটিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের টিকলী শরিফ, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের অশোক আলী, আইন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শাহারিয়ার সান ও শেখ মোহাম্মদ সাইফসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরিশাল বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করলেও সেটি ছিল দায়সারা। এ কারণে মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।

জুলাইয়ের ওই হামলায় আহত আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম ওহিদুর রহমান বলেন, “২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ছাত্রলীগ বর্বর আক্রমণ চালায়। হামলাকারীদের নাম-পরিচয়সহ তালিকা প্রক্টর অফিসে একাধিকবার জমা দেওয়া হয়েছে এবং ফৌজদারি মামলা দায়েরের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম অবহেলা ও নজরদারির অভাব স্পষ্ট।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, “আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে।”

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশীদ বলেন, “অবশ্যই আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আগামী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হবে। সেখানে সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে একটি জুডিশিয়ারি কমিটি গঠন করা হবে।”

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ দুই বছর পর হলেও অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...