Logo Logo

নতুন করে সংসার করতে রাজি না হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ


Splash Image

দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় এক পাষণ্ড সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার নৃশংস অভিযোগ উঠেছে। পুনরায় সংসারে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ নিহত নারীর পরিবারের। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত সাবেক স্বামীকে পুলিশ আটক করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (১ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের সুতারপাড়া গ্রামে। নিহত নারীর নাম সুমাইয়া আক্তার (২৫)। তিনি সুতারপাড়া গ্রামের দিনমজুর সিরাজুল ইসলামের মেয়ে। অন্যদিকে অভিযুক্ত সাবেক স্বামী মাহবুবুর রহমান (৫০) পাশের বুধাপুকুর গ্রামের সফিউদ্দিনের ছেলে এবং পেশায় একজন নির্মাণশ্রমিক।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়া ও মাহবুবুর দুজনেরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সুমাইয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন মাহবুবুর। ক্রমাগত নির্যাতনের একপর্যায়ে প্রায় দুই মাস আগে সুমাইয়াকে তালাক দেন তিনি। বাবা ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করায় এবং মা মারা যাওয়ায় তালাকের পর দুই সন্তান নিয়ে নিজের ভাইয়ের সংসারে আশ্রয় নেন সুমাইয়া। কিন্তু বিচ্ছেদের পরও মাহবুবুর কয়েক দিন ধরে সুমাইয়াকে পুনরায় সংসার করার জন্য তীব্র চাপ ও ভয়ভীতি দিয়ে আসছিলেন। সুমাইয়া এতে রাজি না হওয়ায় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

প্রতিবেশীরা জানান, গত শনিবার রাতে মাহবুবুর জোরপূর্বক সুমাইয়াদের বাড়িতে ঢুকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সুমাইয়া বাধা দিলে দুজনের মধ্যে মারাত্মক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে সঙ্গে করে বোতলে নিয়ে আসা পেট্রোল সুমাইয়ার শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন মাহবুবুর।

সুমাইয়ার আকুল চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আগুন নেভান এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। তবে রংপুর নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অগ্নিদগ্ধ সুমাইয়া। মৃত্যুকালে তিনি ৬ বছর বয়সি এক ছেলে ও ৩ বছরের একটি ছোট মেয়ে রেখে গেছেন।

এ বিষয়ে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবদুল হালিম জানান, “ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমানকে আটক করেছে। ঘটনাস্থল থেকে পেট্রলের খালি বোতল ও একটি ধারালো ছুরি জব্দ করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...