বিজ্ঞাপন
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর সিদ্দিকীয়া বিশ্ব ইসলাম মিশনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “একটি দল ধর্মের নাম ভাঙিয়ে মানুষকে রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্ত করছে, যা একেবারেই অনুচিত। ধর্ম মানুষের হৃদয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থান, এর নাম শুনলেই মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু ওই দলটি সবসময় সঠিক কাজ করে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সর্বস্তরের নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। হিন্দু ভাই-বোনেরা এবার আমাদের বিপুল সমর্থন ও ভোট দিয়েছেন; এটি স্মরণে রেখে তাঁদের ভালোবেসে সবার জন্য সমানভাবে কাজ করে যেতে হবে।”
বিগত ১৫ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছর আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করেছি। আমাদের বহু নেতাকর্মী অসংখ্য মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, আদালতে হাজিরা দিতে দিতে জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং কারাবরণ করেছেন। মহান আল্লাহ শেষ পর্যন্ত সুদিন ফিরিয়ে দিয়েছেন।”
স্থানীয় উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চিকিৎসক সংকট এবং পরিবেশের চরম অবহেলা ছিল। ইতোমধ্যে সেখানে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। আমরা পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ডায়ালাইসিস সেন্টার চালুর পরিকল্পনা করছি, যাতে কিডনি রোগীদের চিকিৎসার জন্য কষ্ট করে রংপুরে দৌড়াতে না হয়।”
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব সম্ভাব্য প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “যাঁরা চেয়ারম্যান বা মেম্বার হতে চান, তাঁদের আগে জনগণের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করলে এবং ভালোবাসলে জনগণই আপনাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচিত করবে।”
পরিশেষে তিনি বলেন, “আল্লাহর কাছে যদি সত্যি মন থেকে কিছু চাওয়া যায়, তবে তা পূরণ হয়। আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করি এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তবে অবশ্যই ঠাকুরগাঁওকে দারিদ্র্যমুক্ত, আধুনিক ও কর্মসংস্থান সমৃদ্ধ জেলায় রূপান্তর করা সম্ভব হবে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...