বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রলারে থাকা ১৩ জন জেলের বাড়িই পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকায়।
এ ঘটনায় পাথরঘাটার উপকূলজুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ। স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলেও সেই অপেক্ষার শেষটা হয়েছে হৃদয়বিদারক। যাঁরা জীবিকার সন্ধানে সাগরে গিয়েছিলেন, তাঁদের পাঁচজন আর জীবিত ফিরে আসছেন না।
ট্রলারের মালিক ও মাঝি বাদল মোল্লা জানান, গভীর সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচ জেলের মরদেহ পাওয়া গেছে। মরদেহগুলো একটি মাছ ধরার ট্রলারে করে উপকূলের দিকে আনা হচ্ছে।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের পর হাইরের চরসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে প্রচণ্ড ঝড় ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে বিপদের মুখে পড়ে ‘এফবি বরকত’। একপর্যায়ে সাগরের তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময় ট্রলারটিতে ছিলেন ১৩ জন জেলে।
ট্রলারডুবির পর ভাগ্যক্রমে ৮ জন জেলে জীবিত উদ্ধার হন। কিন্তু সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে নিখোঁজ হয়ে যান আরও পাঁচজন। এরপর থেকেই তাঁদের সন্ধানে গভীর সাগরে শুরু হয় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার এক দীর্ঘ অভিযান।
নিহত পাঁচ জেলে হলেন, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নুর আলম (৩৭), কাওসার (৩০), সাইকুল (৩৩), ইব্রাহিম (২৮) ও বেল্লাল (২২)।
উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের বাবুর্চি ইউনুস মোল্লা জানান, দুর্ঘটনার সময় সাগরের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রবল ঝড়, তুফান ও বড় বড় ঢেউয়ের মধ্যে তাঁরা মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন জেলে ক্লান্ত হয়ে ট্রলারের ব্রিজের ভেতরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে মুহূর্তের মধ্যেই ট্রলারটি উল্টে যায়।
ট্রলার ডুবে যাওয়ার পর ৮ জন জেলে প্রায় দুই ঘণ্টা সাগরে ভেসে থেকে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে একটি মাছ ধরার ট্রলার তাঁদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। তবে পাঁচজনের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় উৎকণ্ঠা আরও বাড়তে থাকে স্বজনদের মধ্যে।
নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে একটি ট্রলার গভীর সাগরে পাঠানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা অনুসন্ধানের পর অবশেষে পাঁচ জেলের মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।
মরদেহ উদ্ধারের খবর পাথরঘাটায় পৌঁছালে নিহত জেলেদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। যে পরিবারগুলো স্বজনদের জীবিত ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিল, তাদের ঘরে এখন কান্নার রোল।
সাগরে জীবিকার সন্ধানে যাওয়া মানুষগুলো ফিরছেন তবে জীবিত নয়। একটি ট্রলারডুবি কেড়ে নিল পাঁচটি প্রাণ, পাঁচটি পরিবারের স্বপ্ন এবং অসংখ্য স্বজনের আপনজন।
মরদেহগুলো উপকূলে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...