Logo Logo

জামালগঞ্জে মাছ-সবজির বাজারে আগুন, দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ


Splash Image

দিনমজুরের কাজ করে দিনে আয় হয় পাঁচশ থেকে ছয়শ টাকা। কিন্তু কাজ থাকে অনিয়মিত। কখনো কাজ জোটে, কখনো আবার খালি হাতে ফিরতে হয় বাড়ি। ছয় সদস্যের এই পরিবারে চার সন্তানকে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের দিনমজুর করিম মিয়াকে (৫০)। চাল-ডাল কেনা, মাছ-সবজি সংগ্রহ ও সন্তানদের প্রয়োজন মেটানোর নিত্যদিনের খরচ সামলাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। কাজ না থাকলে পরিবারে খাবার জোগাড় করতে হয় ধারদেনা করে, নতুবা খরচ কমিয়ে পার করতে হয় দিন।


বিজ্ঞাপন


করিম মিয়ার এই সংকট কেবল একটি পরিবারের চিত্র নয়; বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে হিমশিম খাওয়া জামালগঞ্জের অসংখ্য নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের প্রতিদিনের বাস্তবতা। আয় না বাড়লেও বাজারে মাছ-সবজিসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার সাচনাবাজারের মাছ ও সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছ ও সবজির বাজারে চড়া দামের প্রভাব স্পষ্ট। হাওরাঞ্চলের উপজেলা হওয়া সত্ত্বেও বাজারে দেশীয় মাছের সরবরাহ কম থাকায় চাষের মাছের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সেখানেও দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি। বাজারে রুই ও কাতলা মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ টাকা এবং অন্যান্য মাছের বেশির ভাগ ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের এমন দামে একই টাকায় আগের চেয়ে কম পরিমাণ মাছ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন স্বল্প আয়ের ক্রেতারা।

অন্যদিকে, সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। সাচনাবাজারে ফুলকপি ও শিম প্রতি কেজি ১২০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য সবজির বেশির ভাগই ৮০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। মাছ ও সবজির দাম একসঙ্গে বেশি থাকায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

বাজার করতে আসা কালিবাড়ি গ্রামের নাছির মিয়া জানান, নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে কেনাকাটা করা এখন অসম্ভব। আয় না বাড়লেও সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া। হাওরাঞ্চলে দেশীয় মাছের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকা এবং চাষের মাছের চড়া দাম সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য রুখতে প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানান তিনি।

মাছ বিক্রেতা আবু তাহের আলাই মিয়া বলেন, হাওর ও নদী থেকে পর্যাপ্ত মাছ না আসায় আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বেশি দামে কিনে সামান্য লাভে বিক্রি করলেও ক্রেতাদের কাছে দাম বেশি মনে হচ্ছে।

সবজির বিক্রেতা ইসহাক মিয়া শাহিদ তালুকদার ও নুর ইসলাম জানান, পাইকারি বাজারে কিছু সবজির দাম কমলেও পরিবহন খরচ ও স্থানীয় সরবরাহের সমস্যার কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে না। শীতের সবজি বাজারে এলে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।

সচেতন নাগরিক আব্দুল হান্নান ও মারুফ আহমেদ মনে করেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, মূল্যতালিকা প্রদর্শন নিশ্চিত করা এবং পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দামের ব্যবধান পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ও পরিবহনসংক্রান্ত সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান করা দরকার।

সাধারণ ক্রেতাদের প্রধান দাবি, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসে এবং সীমিত আয়ের মানুষ অন্তত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্বস্তিতে বেঁচে থাকতে পারেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...