চীনা যুবক যুবক ইয়ং সং সাও ও বাংলাদেশী সুরভী
বিজ্ঞাপন
প্রেমের টানে জাতি–ধর্ম ও দেশের সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন চীনের জিয়াংসু প্রদেশের যুবক ইয়ং সং সাও (৩৬)। পেশায় নির্মাণ প্রকৌশলী ইয়ং দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের কাজিপাড়া শিমুলতলা গ্রামের তরুণী সুরভী আক্তারকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে দেশে আসেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে ‘হ্যালো ট্যাগ’ নামের একটি অ্যাপে সুরভী ও ইয়ংয়ের পরিচয় হয়। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা কাটাতে তারা গুগল ট্রান্সলেট ব্যবহার করে কথা বলতেন। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব রূপ নেয় প্রেমে। সুরভী শর্ত দেন—বিয়ে করতে হলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে হবে। সেই শর্ত মেনেই ইয়ং বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, ইয়ং ৪ আগস্ট চীন থেকে রওনা হয়ে ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় সুরভীদের বাড়িতে পৌঁছান। বিদেশি বরকে একনজর দেখতে খবরে আশপাশের বহু মানুষের ভিড় জমে যায়।
সুরভীর বাবা অটোচালক নুর হোসেন বাবু ও মা গৃহিণী সাথী আক্তারের দুই মেয়ের ছোটজন সুরভী। ইয়ংয়ের বাবা মৃত ইউয়ান সিকি ও মা লিউ ফেনহং। উভয় পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে ইয়ংয়ের পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগের বিস্তারে সীমান্তপারের এমন সম্পর্ক এখন আর বিরল নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন—বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই, বৈধ ভিসা–নিয়ম মেনে থাকা ও ধর্মীয়–আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রেজিস্ট্রি করা—এসব পদক্ষেপই দুই পক্ষের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার জন্য জরুরি। বিরলে ইয়ং–সুরভীর ঘটনা স্থানীয়ভাবে কৌতূহল তৈরি করলেও পরিবারগুলো বলছে, সব আনুষ্ঠানিকতা মিটলেই আয়োজন হবে বিয়ের।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...