Logo Logo

নোয়াখালীতে প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারি শিক্ষিকার আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস


Splash Image

নোয়াখালী সদর উপজেলার পূর্ব ভাটিরটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান দুলাল।

নোয়াখালী সদর উপজেলার পূর্ব ভাটিরটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান দুলাল এবং হাতিয়া পৌরসভার গুল্যাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা গুলশান আরা বেগমের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং অভিভাবক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


ভিডিও ফাঁসের পর গতকাল সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে অভিভাবকদের আপত্তির মুখে সহকারী শিক্ষিকা গুলশান আরাকে বিদ্যালয়ে আসতে মৌখিকভাবে নিষেধ করেন গুল্যাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জাকিয়া বেগম। এর আগে রোববার রাতে প্রায় ৪ মিনিট ৫০ সেকেন্ড দীর্ঘ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে যাদের দেখা গেছে তারা হলেন— মনিরুজ্জামান দুলাল, প্রধান শিক্ষক, পূর্ব ভাটিরটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং গুলশান আরা বেগম, সহকারী শিক্ষিকা, গুল্যাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এ নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর। অথচ তারা নিজেরাই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। এমনকি নিজেরা ভিডিও ধারণ করে সেটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি করেছেন। এতে তারা শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। এটি শিক্ষক সমাজের জন্য লজ্জার বিষয়।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান দুলাল বলেন, “ওই সহকারী শিক্ষিকা আমার দ্বিতীয় স্ত্রী। বিষয়টি আমার প্রথম স্ত্রীও জানে। বিএনপি করার কারণে ২০২১ সালের ২৩ এপ্রিল হাতিয়ার সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর লোকজন আমার ওপর হামলা চালায় এবং আমার মোবাইল, ল্যাপটপ, মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়। তখনই তারা ভিডিওটি সংগ্রহ করে। পরে একটি চক্র আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা দাবি করতে থাকে। আমি এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছি।”

তবে তিনি দ্বিতীয় বিবাহের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা গুলশান আরার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

গুল্যাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জাকিয়া বেগম বলেন, “ভিডিওটি অনেক আগের। বিষয়টি তার ব্যক্তিগত। সোমবার সকালে অভিভাবকরা আমাকে বিষয়টি জানান। এরপর আমি ওই শিক্ষিকাকে জানালে তিনি দুপুরেই স্কুল থেকে চলে যান। আপাতত সম্মান রক্ষার্থে তিনি ছুটি নেবেন।”

হাতিয়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন,“ভিডিও ফাঁসের বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা আমাকে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন।”

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইসরাত নাসিমা হাবীব বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি পরস্পর শুনেছি। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। এই ধরনের ভিডিও আমরা দেখব না। বিষয়টি যেহেতু আমার নলেজে এসেছে, আমি ব্যবস্থা নেব। বর্তমানে আমি ছুটিতে আছি, বুধবার অফিসে গিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পত্র দেব।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...