ছবি : সংগৃহীত।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৩০ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাজ চিন্তা ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন।
হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন দুর্বল হওয়ায় ছোট দেশগুলো ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভারতের স্পার নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের নদীতে তীব্র স্রোত তৈরি হয়, বাঁধ ভেঙে যায়, আর নতুন বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করলে বিএসএফ বাধা দেয়।”
সভায় বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও নদী আজ সবচেয়ে অবহেলিত। অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় এবং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার কারণে দেশ ভয়াবহ পানি সংকটে পড়ছে। ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার, ফারাক্কা ও গজলডোবা ব্যারেজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীর ভাটির দিকে পানি প্রবাহ কমছে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি, নাব্যতা, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর।
তিনি আরও বলেন, দেশে প্রায় ১,৪১৫টি নদী থাকলেও বর্তমানে কতগুলো কার্যকরভাবে জীবিত আছে তা সঠিকভাবে জানা নেই। নদী দূষণ, দখল, খাল ভরাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে বহু নদী খালে বা মৃত খালে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বাড়তি চাপের কারণে পানি স্তর প্রতিবছর গড়ে তিন মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে; কোথাও কোথাও ৪০ মিটার পর্যন্ত নেমেছে। ওয়াটার রিসোর্স প্ল্যানিং অর্গানাইজেশন (ওয়ারপো) কেবল পানি নীতির ওপর কাজ করছে, কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা বোর্ড গঠন জরুরি।
জ্বালানি ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী বিনি রাহমাতুল্লাহ বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ নদী। নদীকে মরতে দিলে রাষ্ট্রও বাঁচবে না। গার্মেন্টস শিল্প আমাদের প্রকৃত সম্পদ তৈরি করছে না, বরং নদীই বাংলাদেশের প্রাণভিত্তি। তাই নদী রক্ষায় সুস্পষ্ট নীতিমালা গ্রহণ অপরিহার্য।”
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নদীকে অবহেলা করা হচ্ছে। ভারতের বাঁধ, বাংলাদেশের ক্ষতিকর উন্নয়ন প্রকল্প এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানি সংকট ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। নদী রক্ষায় উন্নয়ন দর্শন পরিবর্তন, ক্ষতিকর প্রকল্প বাতিল এবং ঋণদাতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজ চিন্তা ফোরামের সম্পাদক সাংবাদিক আবু সাইদ খান, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, ওয়াকার্স পার্টি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...