বিজ্ঞাপন
শি জিনপিংয়ের এই বক্তব্যের সমান্তরালে তাইওয়ান প্রণালীতে সামরিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। দীর্ঘ সময় ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ দাবি করে আসা বেইজিং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দ্বীপটি দখলের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তাদের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সবুজ সংকেত দিলেই যেকোনো সময় সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)।
চীনের এই বিশাল সামরিক মহড়ায় তাদের শক্তির ব্যাপক মহড়া লক্ষ্য করা গেছে। গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ডসংখ্যক ২০০টিরও বেশি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এই অভিযানে অংশ নেয়, যা অঞ্চলটিতে বেইজিংয়ের আকাশপথের আধিপত্যকে স্পষ্ট করে তোলে।
মহড়া চলাকালীন চীন তাইওয়ানের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে অন্তত ২৭টি মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে; তাইওয়ানের দাবি অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের উপকূল থেকে মাত্র ২৭ নটিক্যাল মাইল দূরে গিয়ে পড়ে।
এছাড়া, এই অভিযানের অন্যতম প্রধান কৌশল ছিল নৌ ও বিমানবাহিনীর বিশাল বহর ব্যবহার করে তাইওয়ানকে চারপাশ থেকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে ফেলার সক্ষমতা প্রদর্শন করা, যা দ্বীপ রাষ্ট্রটির নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গতকাল বুধবার চীন আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক মহড়া শেষ করার ঘোষণা দিলেও উত্তেজনা কমেনি। তাইওয়ান সরকার এখনো দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি রেখেছে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, চীনের নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের অন্তত ২৫টি জাহাজ এখনো তাইওয়ানকে ঘিরে অবস্থান করছে।
এছাড়া তাইওয়ানের উত্তর উপকূলের আকাশে চীনের দুটি নজরদারি বেলুন উড়তে দেখা গেছে, যা গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিজস্ব সরকার দ্বারা পরিচালিত হলেও তাইওয়ানের ওপর চীনের এই ক্রমাগত চাপ এশিয়াসহ বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...