বিজ্ঞাপন
স্থানীয়ভাবে ‘ডাকাত’ হিসেবে পরিচিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি কেবল হত্যাযজ্ঞই চালায়নি, বরং বাজারের দোকানপাটে লুটপাট শেষে অগ্নিসংযোগও করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নাইজারের ডেমো গ্রামের ‘কাসুয়ান দাকি’ মার্কেটে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নাইজার পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিও আবিওদুন জানান, একদল বন্দুকধারী মোটরসাইকেলে চেপে বাজারে প্রবেশ করে অতর্কিতে ও নির্বিচারে গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই ৩০ জন প্রাণ হারান।
সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার সময় বেশ কিছু দোকান থেকে মালামাল লুট করে এবং সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
হামলায় আহত দাউদা সাকুল্লে রয়টার্সকে জানান, হামলার সময় বাজারে নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো উপস্থিতি ছিল না। সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত নির্মমভাবে নারী ও শিশুদের ওপরও গুলি চালিয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বন-জঙ্গল সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অপরাধীদের নির্মূলে কঠোর অভিযান শুরু করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।”
নাইজার পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, অপহৃতদের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারে ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
নাইজেরিয়ায় সম্প্রতি অপহরণ ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। উল্লেখ্য, এই হামলার ঠিক এক মাস আগে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় একটি ক্যাথলিক স্কুল থেকে বন্দুকের মুখে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছিল, যাদের বড় একটি অংশ এখনও নিখোঁজ। রোববারের এই হামলা নাইজেরিয়ার ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও সামনে নিয়ে এল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...