বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৯ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ৪ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া সংঘাত চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর ২ জন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। সংস্থাটির দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় আজনা, মারভদাশত ও কোরভেহ শহরে নতুন করে ৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে।
বিক্ষোভে আহতের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৪ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে, যাদের শরীরের অধিকাংশ স্থানে পেলেট গান ও প্লাস্টিক বুলেটের আঘাত রয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি পক্ষ তথা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের হামলায় প্রায় ২৫০ জন পুলিশ এবং ৪৫ জন বাসিজ সদস্য আহত হয়েছেন।
বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। এইচআরএএনএ-র তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
বিক্ষোভের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও। বর্তমানে ইরানের অন্তত ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। তেহরান, ইস্পাহান, কাজভিন ও বোজনুর্দসহ বিভিন্ন শহর থেকে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত ২১ জন নিহতের পরিচয় স্বাধীনভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
কঠোর বিধিনিষেধ ও সরাসরি গুলি ব্যবহারের অভিযোগ সত্ত্বেও দেশটির অন্তত ৮৮টি শহরের ২৫৭টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ ও শ্রমিক ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দেয়ালে দেয়ালে উগ্র স্লোগান লিখে তাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানান দিচ্ছে।
তবে ইরানে বর্তমানে ইন্টারনেট সংযোগে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে। স্বাধীন তথ্যসূত্রে প্রবেশাধিকার সীমিত হওয়ায় প্রকৃত হতাহত ও গ্রেপ্তারের সঠিক সংখ্যা যাচাই করা দুরুহ হয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি বা প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...