বিজ্ঞাপন
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখল না করে, তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি রাশিয়া বা চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিজের দোরগোড়ায় রাশিয়া বা চীনকে প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে তিনি মোটেও আগ্রহী নন। কেন লিজ না নিয়ে সরাসরি মালিকানা নিতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প যুক্তি দেন যে, কোনো ভূখণ্ডকে যথাযথভাবে রক্ষা করতে হলে তার পূর্ণ মালিকানা প্রয়োজন। লিজ নেওয়া জমিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেই তিনি মনে করেন।
রুশ সংবাদসংস্থা তাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু না বললেও আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি ‘সহজ উপায়ে’ বিষয়টি মিটমাট করতে পছন্দ করবেন। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে ‘কঠিন উপায়ে’ বা শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটি কব্জায় নিতেও তিনি দ্বিধা করবেন না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছেন, ট্রাম্প বর্তমানে তার সহযোগীদের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছেন।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ১৯৫১ সালের এক প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, ন্যাটোর আওতায় এর সুরক্ষার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত। যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশা প্রকাশ করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ড প্রথমে স্বাধীনতা অর্জন করবে এবং পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হবে, কিন্তু ট্রাম্পের সুর ভিন্ন। কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে তিনি সামরিক বিকল্প সবসময় খোলা রাখছেন এবং আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী মনোভাব ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে। ডেনমার্ক যখন তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে অনড়, তখন ট্রাম্পের ‘মালিকানা’র দাবি বিশ্ব শান্তিতে এক নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...