বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে লাদান নামে ৬০ বছর বয়সী এক নারী জানিয়েছেন, তিনি টানা দ্বিতীয় রাতও রাস্তায় নেমে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তেহরানের সাদা’ত আবাত এলাকার বাসিন্দা লাদান বলেন, তিনি নিজ চোখে দেখেছেন বিক্ষোভকারীরা একটি মসজিদে আগুন দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতের মতো শুক্রবার রাতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে মাসহাদ, তাবরিজ, উরুমিয়াহ, ইস্ফাহান, কারাজ ও ইয়জদসহ একাধিক শহরে। বিবিসি ফার্সি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুকামনা করে স্লোগান দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা রাজতন্ত্র তথা শাহ শাসনের পক্ষে স্লোগান দেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাধারণ মানুষকে বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে বাবা-মায়েদের উদ্দেশে প্রচারিত বার্তায় বলা হয়, তারা যেন সন্তানদের বিক্ষোভে যেতে না দেন। সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, বিক্ষোভস্থলে গোলাগুলি হলে এবং কোনো ক্ষতি হলে অভিযোগ গ্রহণ করা হবে না।
এমন হুমকি ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখার পরও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তেহরান থেকে আমির রেজা নামে ৪২ বছর বয়সী এক প্রকৌশলী জানান, তিনি গুলির শব্দ ও সাউন্ড বোমার বিস্ফোরণ শুনেছেন। একপর্যায়ে সিভিল পোশাকে থাকা মিলিশিয়া ও পুলিশ গুলি ছোড়া শুরু করলে তিনি বাড়িতে ফিরে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী আকাশের দিকে গুলি ছোড়ে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু করেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তা সহিংস রূপ নেয়। টানা ১৩ দিন ধরে চলমান এই আন্দোলনের মধ্যে টাইম ম্যাগাজিন এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, গত বৃহস্পতিবার শুধুমাত্র তেহরানেই ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেশটি অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচণায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে শক্তিশালী হামলা চালাবে। ট্রাম্পের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সরকার গুরুতর সংকটে রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...