Logo Logo

সিরিয়াজুড়ে আইএসের শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা


Splash Image

সিরিয়ায় সক্রিয় আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে মার্কিন বিমান বাহিনী। ‘অপারেশন হকিয়ে’-এর অংশ হিসেবে শনিবার রাতভর সিরিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে আইএসের শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।


বিজ্ঞাপন


সেন্টকোমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান চলে। অভিযানে মার্কিন বিমান বাহিনীর ২০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল এফ-১৫ই (F-15E), এ-১০ (A-10), এবং এসি-১৩০জে (AC-130J) গানশিপ। এছাড়া এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং জর্ডানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানও এই অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

সেন্টকোমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি-কে জানান, আইএসের অন্তত ৩৫টি সুনির্দিষ্ট নিশানায় ৯০টিরও বেশি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে এই হামলায় প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

অভিযানের লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট

ক্যাপ্টেন হকিন্স বলেন, "আইএস-কে নির্মূল করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যৎ জঙ্গি হামলা দমন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সুরক্ষাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।"

গত ডিসেম্বর মাসের শুরুতে সিরিয়ার পালমিরায় একটি মার্কিন-সিরীয় গাড়িবহরে আইএসের অতর্কিত বন্দুক হামলায় দুইজন মার্কিন সেনা ও একজন দোভাষী নিহত হন। সেই হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতেই গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন হকিয়ে’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই অভিযানকে ‘প্রতিশোধমূলক পাল্টা পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আইএসের বর্তমান পরিস্থিতি

২০১৪ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সুযোগে আইএসের উত্থান ঘটলে তারা সিরিয়া ও ইরাকের বিশাল অঞ্চল দখল করে নেয়। সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল। বর্তমানে সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে ১ হাজার সেনা অবস্থান করছে।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো এবং রুশ বাহিনীর ক্রমাগত অভিযানের মুখে আইএস এখন কোণঠাসা। এক সময়ের বিশাল সাম্রাজ্যের মাত্র এক-পঞ্চমাংশ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, চলমান অভিযানের মুখে অবশিষ্ট এই অংশটুকুও অচিরেই হারাবে গোষ্ঠীটি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...