বিজ্ঞাপন
ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনন্দ বাজার এলাকায় রসায়ন বিভাগের ১৪তম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে বাংলা বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার জেরে শনিবার সকাল ১০টার দিকে রসায়ন বিভাগের ৪–৫ জন শিক্ষার্থী সিফাতকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও হাতুড়ি দিয়ে মারধরের অভিযোগটি অস্বীকার করেছে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য শনিবার বিকেল তিনটার দিকে বাংলা ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একত্রে বসলে আলোচনা চলাকালীন কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।
অভিযুক্ত বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, “আমার বিরুদ্ধে রসায়ন বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেওয়ার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং এর পক্ষে কোনো প্রমাণও নেই। অথচ আজ সকালে রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাকে ডেকে নিয়ে শহীদ মিনারের পেছনে হাতুড়ি দিয়ে মাথা ও পিঠে আঘাত করে। পরে অন্যরা এসে আমাকে উদ্ধার করে। পরে সমাধানের জন্য বসলে আবারও আমাদের ওপর হামলা করা হয়। আমি আমার ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগের সমাধান নিয়ে আলোচনার সময় উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরকে আঘাত করা হয় এবং পাশে থাকা একটি চায়ের দোকান ভেঙে ফেলা হয়। এতে উভয় বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের সময় ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক নাছিমা বেগম বলেন, “গত বৃহস্পতিবার রাতে আমার দোকানে চুরি হয়েছে। তার মধ্যেই আজ আবার দোকান ভাঙচুর করা হলো। আমি একজন অসহায় মানুষ। আমার দোকানটা যেন ঠিক করে দেওয়া হয়—এই দাবি করছি।”
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ অভিযোগ করে বলেন, “নারী শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগ তুলে রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের বিভাগের সিফাতকে মারধর করেছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা বিকেল তিনটায় বসলে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের হুমকি দেয় এবং অতর্কিত হামলা চালায়। দোকান ভাঙচুর ও আমাদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
অন্যদিকে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ বলেন, “আমাদের বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য বসেছিলাম। কিন্তু আলোচনার একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আমরা নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও আজকের ঘটনার বিচারের দাবিতে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সংঘর্ষের বিষয়টি এবং নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ—সবকিছু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। গুরুতর কেউ আহত হয়নি। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...