বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার জাঠিয়া বোচাই সাধুর আশ্রমে মহোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বাউল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অতীতের সমাজে বিভাজনের দেয়াল ছিল না। সে সময় বাউলরা অবাধে সারা দেশে ঘুরে বেড়াতে পারতেন। বাংলার পথে-প্রান্তরে যতদিন বাউলদের অবাধ বিচরণ ছিল, ততদিন হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব দেখা যায়নি। বাউল সংগীতই মানুষের মধ্যে মানবিকতা ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, সারা দেশে বাউল সংগীত আজ কঠিন সময় পার করছে। বিভিন্ন এলাকায় বাউল গান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও কোথাও বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে। এমনকি একজন প্রখ্যাত বাউল শিল্পী এখনো কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এসব ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাউল শিল্পীদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সারাদেশে বাউলদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে এবং সংসদে আইন প্রণয়ন করে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে, যাতে তারা আইনের ফাঁক গলে পার না পায়।
জাঠিয়া বোচাই সাধুর আশ্রমের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে আশ্রমে আসার রাস্তাটি পাকা করা, যাতে ভক্তরা সহজেই যাতায়াত করতে পারেন। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী এই আশ্রমটির সার্বিক উন্নয়ন করা হবে এবং সারা বাংলার বাউল শিল্পীরা যেন এখানে এসে বৃহৎ পরিসরে উৎসব আয়োজন করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও করা হবে।
গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, এটি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলার উন্নয়নের রূপকার শেখ হাসিনার পুণ্যভূমি। এই এলাকায় ইতোমধ্যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে এখন ঢাকা থেকে কোটালীপাড়ায় মাত্র দুই ঘণ্টায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। ঢাকার ভেতরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে যে সময় লাগে, তার চেয়েও কম সময়ে এখন কোটালীপাড়ায় পৌঁছানো যায়। এসব উন্নয়ন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে এবং জাতির জনকের এই পুণ্যভূমিকে হিন্দু বা মুসলমান সংস্কৃতির সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ না রেখে বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
উৎসব অনুষ্ঠানে আশ্রম কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন এলাকার বাউল শিল্পী এবং সহস্রাধিক ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...