বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভোরে হামিদরেজা সাবেত এসমাইলপুর নামের ওই ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। দেশটির বিচার বিভাগীয় সংবাদ সংস্থা 'মিজান' এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিচার বিভাগ জানায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এসমাইলপুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোসাদের এক এজেন্টের কাছে স্পর্শকাতর তথ্য সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসমাইলপুর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ‘নাশকতামূলক অভিযান’ চালাতে সহায়তার উদ্দেশ্যে সরঞ্জাম কেনা এবং বিস্ফোরক বোঝাই যানবাহন স্থানান্তরের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে দাবি তেহরানের।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ জানুয়ারি আলি আরদেস্তানী নামে আরেক ব্যক্তিকে একই অভিযোগে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, গত জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১২ জনকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ থেকে আটক হওয়া অনেকেই এখন মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এনজিও ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর তথ্যমতে, গত বছর ইরানে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে, যা চীনের পর বিশ্বে সর্বোচ্চ।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা জুনের যুদ্ধের পর নতুন মাত্রা পেয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, ইসরায়েল তাদের পরমাণু স্থাপনায় নাশকতা এবং বিজ্ঞানীদের হত্যার পেছনে জড়িত। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদী হামলাগুলো ইরানি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের গভীর অনুপ্রবেশের বিষয়টি সামনে এনেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো অভিযোগ করেছে যে, ইরান সরকার নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বিচারকার্য সম্পন্ন করছে, যেখানে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত এজেন্টরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
তেহরান অবশ্য জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতার সন্দেহে গ্রেপ্তারকৃতদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...