বিজ্ঞাপন
২০১৮ সালের পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করলেন। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুই নেতার মধ্যে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজ প্রায় ৩ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। সফরের অংশ হিসেবে স্টারমার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাত করবেন।
বৈঠকের শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, “চীন বৈশ্বিক অঙ্গনে একটি অপরিহার্য শক্তি। আমাদের এমন একটি পরিণত সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে আমরা সহযোগিতার সুযোগগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি মতবিরোধের বিষয়গুলোতেও অর্থবহ সংলাপ চালিয়ে যেতে পারব।”
জবাবে শি জিনপিং বলেন, চীন ও ব্রিটেনের সম্পর্ক অতীতে অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে, যা কোনো দেশের জন্যই কল্যাণকর ছিল না। চীন এখন ব্রিটেনের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রস্তুত, যা ইতিহাসের পরীক্ষায় টিকে থাকবে।
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন স্টারমার সরকার বর্তমানে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এই অবস্থায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন স্টারমার। তবে গুপ্তচরবৃত্তি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য নিয়ে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্নায়বিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুধু যুক্তরাজ্য নয়, ইউরোপীয় অন্যান্য দেশগুলোও ট্রাম্পের অনিশ্চিত নীতির প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক কেরি ব্রাউনের মতে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, স্টারমারের এই সফরের ঠিক আগেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বেইজিং সফর করে একটি অর্থনৈতিক চুক্তি সম্পাদন করেছেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...