নিহত মো. আরিফ হোসেন।
বিজ্ঞাপন
গতকাল শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রুগুরামপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত আরিফ হোসেন একই ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের বাঞ্ছারাম বাড়ির সিরাজ মিয়ার ছেলে। তিনি কর্মসংস্থানের তাগিদে ঢাকায় একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন এবং মাত্র সাত-আট দিন আগে ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির পেছনের একটি মাঠে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে বাজি ধরে ক্রিকেট খেলা চলছিল। খেলা চলাকালীন দুই দলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও বিরোধ সৃষ্টি হলে আরিফ বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি চা দোকানে প্রাহিম নামে এক যুবক আরিফকে মারধর করে। তৎকালীন সময়ে স্থানীয়রা বিষয়টি সাময়িকভাবে মিটমাট করে দিলেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি।
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় রুগুরামপুর গ্রামে আরিফের ওপর পুনরায় সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আরিফের বুকের বাম পাশে আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই হামলায় আরিফের দুই চাচাতো ভাই উমায়ের (২১) ও ওমর (২২) ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। নিহতের বড় ভাই আকিল জানান, প্রাহিম ও সাইফুলসহ আরও কয়েকজন মিলে এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাজি ধরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...