বিজ্ঞাপন
মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রদান ও স্থগিতের নাটকীয়তা শেষে নাদিরা মিঠুকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তবে দলীয় এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি স্থানীয় দুই প্রভাবশালী নেতা কামাল জামান মোল্লা এবং বর্ষীয়ান সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দীকী। তারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে নামলে বিএনপি তাদের সদস্যপদ স্থগিত করে। বর্তমানে কামাল জামান মোল্লা 'জাহাজ' প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত বৃহস্পতিবার মাদারীপুর-১ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মোড় আসে। দীর্ঘ দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকা শিবচরের দুই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা—উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আঃ লতিফ মোল্লা এবং পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন তোতা খান হঠাৎ প্রকাশ্যে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার (জাহাজ প্রতীক) পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের এই প্রচারণার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
উল্লেখ্য, এই দুই নেতা জুলাই আন্দোলনে ছাত্র হত্যা মামলার আসামি। ফেসবুকে সাধারণ মানুষ “প্রিয় অভিভাবক এখন জাহাজে”, “নৌকা উঠেছে জাহাজে” ইত্যাদি ক্যাপশনে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই মনে করছেন, এর মাধ্যমে হত্যা মামলার আসামিদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতাদের সমর্থনে কামাল জামান মোল্লা ওই দলের 'গুপ্ত ভোট' পেয়ে এগিয়ে থাকতে পারেন বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তবে সাধারণ আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মী জানান, “এই দুই নেতা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। তারা নিজেদের আখের গোছাতে জাহাজের পক্ষে নেমেছেন, কিন্তু সাধারণ কর্মীরা তাদের কথায় কর্ণপাত করবেন না।”
একদিকে বিএনপির মূল প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত হওয়ার চেষ্টা, অন্যদিকে দুই হেভিওয়েট বিদ্রোহী প্রার্থীর অনড় অবস্থান—সব মিলিয়ে মাদারীপুর-১ এখন এক কঠিন সমীকরণের মুখে।
হত্যা মামলার আসামিদের সরাসরি প্রচারণায় অংশ নেওয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সাথে তাদের এই সখ্যতা ভোটের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...