বিজ্ঞাপন
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রচার-প্রচারণা জোরদারের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মনির হায়দার বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং এ উদ্দেশ্যে একাধিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এসব কমিশনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন। কারণ, দেশের মূল সমস্যার শেকড় সংবিধানের ভেতরেই নিহিত। সংবিধান সংস্কার ছাড়া যত আন্দোলনই হোক, কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সংস্কার কমিশন থেকে প্রায় এক হাজারের মতো সুপারিশ আসে। সেখান থেকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে বাছাই করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৮৪টি সুপারিশ নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫’। এই সনদ বাস্তবায়নের প্রথম ও প্রধান ধাপ হচ্ছে গণভোট।
গণভোটে প্রশ্নের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে উল্লেখ করে মনির হায়দার বলেন, কেউ বলছেন একটি প্রশ্ন, কেউ বলছেন চারটি, আবার কেউ ৪৮টি বলছেন। বাস্তবতা হলো—জুলাই সনদের ৮৪টি সুপারিশের মধ্যে সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি সুপারিশ রয়েছে। এই ৪৮টি সুপারিশকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ব্যালটে উপস্থাপন করা হবে। তবে ভোটারকে মূলত একটি প্রশ্নেরই উত্তর দিতে হবে—তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে নাকি বিপক্ষে।
তিনি বলেন, আপনি যদি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকেন, তাহলে আপনার ভোট হবে ‘হ্যাঁ’। আর যদি বিপক্ষে থাকেন, তাহলে ‘না’। কারণ প্রতিটি সুপারিশই জুলাই অভ্যুত্থানকে পূর্ণতা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রণীত। এই সুপারিশগুলো প্রত্যাখ্যান করা মানে জুলাই অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করে দেওয়া।
মনির হায়দার আরও বলেন, শহীদদের জীবনের বিনিময়ে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেখানে নিরপেক্ষ থাকার কোনো সুযোগ নেই। এখানে ‘না’ ভোট দেওয়ার অর্থই হলো জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। কেউ চাইলে ভোটের মাধ্যমে ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারেন, কিন্তু তাতে স্পষ্ট হয়ে যাবে তিনি কোন অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রহ্মপুত্র ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য আব্দুর রহমান সরকার এবং বাকৃবি রেজিস্ট্রার ড. মো. হেলাল উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...