Logo Logo

গোপালগঞ্জ-২ আসনে গণফোরামের মনোনীত প্রার্থীর গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক


Splash Image

“রাষ্ট্র ও সমাজের অর্থবহ পরিবর্তনের লক্ষ্যে” গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, সামাজিক সুরক্ষা এবং দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-২ আসনে গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উদীয়মান সূর্য প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেছেন শাহ মফিজ।


বিজ্ঞাপন


রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গোপালগঞ্জ জেলা সদরের কুয়াডাঙ্গা এলাকার রসুলপাড়ায় আয়োজিত গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

শাহ মফিজ বলেন, জাতির বিবেক ও বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন প্রতিষ্ঠিত গণফোরাম মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা একটি মূলধারার রাজনৈতিক দল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গণফোরাম দুর্বৃত্তায়িত ও রুদ্ধ রাজনীতির বিরুদ্ধে সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

তিনি আরও বলেন, ‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গণফোরাম নিরলসভাবে কাজ করছে। এজন্য দেশের প্রকৃত মালিক জনগণের সামনে কিছু জরুরি দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। গণফোরামের বিশ্বাস—নির্বাচনের মাধ্যমে “শুধু দল পরিবর্তন নয়, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন চাই”।

শাহ মফিজ বলেন, আপনারা যদি দেশকে বাঁচাতে চান, ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ রক্ষা করতে চান, তবে গণফোরামের ছায়াতলে আসার আহ্বান জানাই। দেশের মানুষ আগামী নির্বাচনের দিকে গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে। তাই এই নির্বাচন হতে হবে কালো টাকা, সন্ত্রাস, পেশিশক্তি ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত—একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

এ সময় তিনি নির্বাচিত হলে গোপালগঞ্জবাসীর জন্য যেসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করবেন, তার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—

সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে প্রজাতন্ত্রের সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা; বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারভাতা চালু করা; কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষি উপকরণের দাম কমিয়ে কৃষিখাতে উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা।

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি রোধ করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, দুর্নীতিবাজদের দমন এবং পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি রোধ করে সকল নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধি করে গণমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নের অংশীদার করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এছাড়া বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করে কার্যকর ও স্বতন্ত্র বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করা এবং গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার অঙ্গীকার করেন শাহ মফিজ।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির মাধ্যমে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের স্বার্থরক্ষা, তাদের যাতায়াতে বিশেষ সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মব সংস্কৃতি বন্ধ করে নৈরাজ্য, হত্যা, ধর্ষণ, খুন ও গুমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হবে।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধর্মের অপব্যবহার ও ধর্মীয় উত্তেজনা বন্ধ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবন ও সম্পদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, “সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়”—এই নীতির ভিত্তিতে ন্যায়সংগত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্র সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড, ন্যায্য পানি হিস্যা এবং অমীমাংসিত সকল দ্বিপাক্ষিক সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...