বিজ্ঞাপন
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ ডিসেম্বর, যখন শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের পিয়ন মোশাররফ হোসেন ১০ লক্ষ টাকাসহ গোপালগঞ্জ শহরের পুলিশ লাইনে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। ওই অর্থ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাদিকুল ইসলাম ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিকরুল ইসলামকে ঘুষ হিসেবে প্রদানের জন্য আনা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি মামলা দায়ের করে, যার প্রেক্ষিতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলামসহ তিনজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুদকের এই মামলা থেকে নিজেকে আড়াল করতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাদিকুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। তিনি সহকারী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর মাধ্যমে পাঁচটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের চাপ প্রয়োগ করে অন্তত ১ কোটি টাকা আদায় করেছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। সংগৃহীত এই অর্থ মামলার তদারকি ও নিজেদের রক্ষা করার কাজে ব্যয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন তিনটি বড় কাজেও ভয়াবহ অনিয়ম ধরা পড়েছে। কাজগুলো হলো— কোটালীপাড়া-রাজৈর সড়কের ওয়ারিং কোর্স (আইডি: ১১৪২৯০৫), গেড়াখোলা-কাশিয়ানী সড়কের এসফল্ট সাপ্লাই (আইডি: ১১৪২৮০৭) এবং ফরিদপুর-বোয়ালমারী-গোপালগঞ্জ সড়কের সিলকোটের কাজ (আইডি: ১১৫০৩৯৯)। এই তিনটি কাজে চুক্তিমূল্য অনুযায়ী পুরুত্ব, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বজায় না রেখে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই তিনটি কাজ থেকে সাদিকুল ইসলাম ২৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, যা সংগ্রহ করেছেন সহকারী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহ। এ বিষয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
স্থানীয় প্রকৌশলীদের দাবি, সাদিকুল ইসলামের চাপে ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মাসুম বিল্লাহর হাতে তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সুষ্ঠু তদন্ত করলে এই কোটি টাকার অনিয়মের প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...