বিজ্ঞাপন
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাকে আটক করা হয়েছে।
নিহত শিশুর নাম ফারিয়া (৩)। সে গোপালগঞ্জ সদরের গোবরা নিলারমাঠ গ্রামের বাসিন্দা ও প্রবাসী রুবেল শেখের মেয়ে। অভিযুক্ত সেতু বেগম একই গ্রামের রুবেল শেখের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে টিকটকের মাধ্যমে ফরিদপুরের সদরপুর থানার মিরাজ মোল্লার সঙ্গে সেতু বেগমের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে গভীর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সেতু বেগম তাঁর প্রেমিকের সহায়তায় নিজ সন্তানের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে রেখে তিনি প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান।
ঘটনার ২০ দিন পর প্রেমিক মিরাজ তাঁকে রেখে চলে গেলে নিরুপায় হয়ে সেতু বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। পরিবারের সদস্যরা শিশু ফারিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে স্বজনরা তাঁকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তাঁকে আটক করে। সেতুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ স্বামীর বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রতিবেশী সেফালি বেগম জানান, সেতু বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকেন এবং তাঁর শাশুড়ি আগেই মারা গেছেন। বৃদ্ধ শ্বশুর অধিকাংশ সময় বাইরে থাকায় বাড়িতে সেতুর একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। কারো সঙ্গে সুসম্পর্ক না থাকায় তাঁর বাড়িতে কেউ যাতায়াত করত না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "সন্তান যদি মায়ের কাছে নিরাপদ না থাকে, তবে আর কোথায় থাকবে? আমরা এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক সেতু বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পলাতক প্রেমিক মিরাজকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...