Logo Logo

লাহোর বৈঠকে আইসিসির সমাধান খোঁজা, বাংলাদেশের প্রাপ্তি কী?


Splash Image

ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে লাহোরে অবস্থান করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এই বৈঠকে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির পাশাপাশি থাকার কথা রয়েছে আইসিসির প্রতিনিধি হিসেবে সিঙ্গাপুর ক্রিকেট বোর্ডের ইমরান খাজা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের মোবাশ্বির উসমানির।


বিজ্ঞাপন


মূলত পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্তে সৃষ্ট সংকট থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতেই এই বৈঠকের আয়োজন করেছে আইসিসি। তবে এই আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান ও প্রাপ্তি নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন—এই বৈঠক থেকে আদৌ কী পাচ্ছে বাংলাদেশ?

নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ। একই অবস্থানে থাকা পাকিস্তান এবার বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার, যা আইসিসিকে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসির সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই ম্যাচ বাতিল হলে সম্প্রচার ও স্পনসরশিপ চুক্তি বাতিল করতে পারে আইসিসির প্রধান সম্প্রচার অংশীদার জিও স্টার। এমন পরিস্থিতিতে আইসিসির আয় কাঠামোই ধসে পড়তে পারে, কারণ সংস্থাটির আয়ের সিংহভাগই আসে এই চুক্তি থেকে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান–নেদারল্যান্ডস ম্যাচ দিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হলেও আইসিসির দুশ্চিন্তা কমেনি। পাকিস্তানকে ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনতে চিঠি চালাচালি থেকে শুরু করে একাধিক বৈঠক করেছে সংস্থাটি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি।

এই প্রেক্ষাপটে ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই সংকট নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে লাহোরে পিসিবি–বিসিবি–আইসিসির এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর প্রতিনিধি হিসেবেই লাহোরে উপস্থিত রয়েছেন ইমরান খাজা ও মোবাশ্বির উসমানি।

পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামে, তাহলে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে আইসিসি। কিন্তু তাতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ আর ফিরবে না—এটাই বড় বাস্তবতা।

বিসিবির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে ‘ক্ষতিপূরণ’ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে আইসিসি। সেই ক্ষতিপূরণ আর্থিক হতে পারে, আবার ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে কোনো আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্ব দেওয়ার মাধ্যমেও হতে পারে। এমনকি বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত লাভের একটি অংশ বাংলাদেশকে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকেও বিসিবি বের হয়ে আসতে পারে। পাশাপাশি আইসিসি চাইলে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ‘সান্ত্বনামূলক বিবৃতি’ও দিতে পারে।

উল্লেখ্য, মোস্তাফিজুর রহমান আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে যেতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ সরকার। সেই সিদ্ধান্তের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি। কিন্তু আইসিসি সেই দাবি আমলে না নিয়ে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্টের বাইরে রাখে।

এর ফলে প্রথমবারের মতো টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসর থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিসিবি ও ক্রিকেটাররা। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের—বিশ্বকাপ না খেলতে পারার যন্ত্রণায় পুড়ছে পুরো বাংলাদেশ।

নিশ্চয়ই বাংলাদেশকে মিস করছে এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপও।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...