বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জুবায়দার বাবা মো. সাইফুদ্দিন জসিম দীর্ঘদিন ধরে পূজাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছেন। বিদ্যালয় থেকে তাদের বাড়ির দূরত্ব প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার। পরিবারের চার সন্তানের মধ্যে তিনজনই একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এলাকায় যানবাহনের স্বল্পতার কারণে তিনি প্রতিদিন সন্তানদের নিয়ে হেঁটেই বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতেন।
পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হোয়াটসঅ্যাপে উপস্থিতির ছবি পাঠানোর বাধ্যবাধকতার কারণে ঘটনাদিনেও তিনি সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে তাড়াহুড়া করেন। সন্তানদের ধীরে ধীরে আসতে বলে তিনি আগে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং সেখানে পৌঁছে উপস্থিতির স্বাক্ষর ও ছবি পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করেন।
এদিকে বাবার পেছনে পেছনে বিদ্যালয়ে আসার পথে প্রধান সড়কে উঠতেই একটি দ্রুতগামী অটোরিকশা শিশুদের ধাক্কা দেয়। এতে জুবায়দা মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে ছিটকে পড়ে। তার অপর এক ভাইবোনও সামান্য আহত হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত জুবায়দাকে উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেখানে আইসিইউ ও উন্নত নিউরো চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাজধানীতে পৌঁছানোর পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরি সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, জুবায়দার মাথার ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং খুলির একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার জীবন রক্ষায় দ্রুত ও ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন।
একজন শিক্ষকের সন্তানের জীবন বাঁচানোর এই কঠিন মুহূর্তে পরিবারটি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সদস্য, শিক্ষক সমাজ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং বিত্তবান ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা:
মো. সাইফুদ্দিন জসিম (শিক্ষক)
বিকাশ/নগদ (পার্সোনাল): ০১৭২৮-১৫০৪৪৮
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থার মানবিক প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের মতে, প্রশাসনিক চাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছানো উচিত নয়, যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা পরিবারের সদস্যদের জীবন ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...