Logo Logo

গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে না পারলে গদি ছাড়ুন : ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে হুঙ্কার


Splash Image

দেশে চলমান তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতি এবং জনদুর্ভোগের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। "গ্যাস দে-বিদ্যুৎ দেয়, নাইলে গদি ছেড়ে দেয়" এবং "এক দফা এক দাবি, ক্ষমতা ছেড়ে কখন পালাবি"—এমন তীব্র ও ঝাঁঝালো স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক।


বিজ্ঞাপন


৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকালে মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের এই বিশাল ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়। বিশাল এই গাড়িবহরে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

লংমার্চের বিভিন্ন পথসভায়, বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও কুমিল্লার মহাসড়কে বক্তব্য দেওয়ার সময় বক্তারা সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেন। বক্তারা স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। জনজীবন আজ বিপর্যস্ত, কলকারখানা বন্ধের উপক্রম। যদি সরকার এই সংকটের সমাধান করতে না পারে, তবে তাদের এক মুহূর্তও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।

পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম স্লোগান তুলে বলেন, "গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাইড়া দে!" তিনি বলেন, জনগণ আজ তাদের অধিকার আদায়ে রাস্তায় নেমেছে। এই লংমার্চ কেবল একটি সাধারণ কর্মসূচি নয়, এটি জনগণের বেঁচে থাকার লড়াই। যদি অবিলম্বে বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিরসন এবং জনগণের দুর্ভোগ দূর করা না হয়, তবে এই আন্দোলন আরও কঠোর রূপ নেবে।

লংমার্চের উদ্বোধনী ও পথসভাগুলোতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়াও জোরালো বক্তব্য পেশ করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।

বক্তারা জোটের ঘোষিত ৬ দফা দাবির কথা উল্লেখ করে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ করার পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট অবিলম্বে দূর করতে হবে। অন্যথায়, জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সরকার যদি রাজপথের এই বার্তা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে তাদের ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হবে।

মতিঝিল থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চটি নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী ও মিরসরাইয়ের বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষ করে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে গিয়ে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ হাততালি ও স্লোগান দিয়ে লংমার্চের প্রতি তাদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানান।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...