বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে চেক বিতরণের সময় বিদ্যালয়প্রতি ১ হাজার টাকা এবং ইন্টারনেট সংযোগের নামে ৩ হাজার ২০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরের জন্য উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ইন্টারনেট বিল বাবদ প্রতি বিদ্যালয়ের জন্য মাসে ১ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে হিসাবে একটি বিদ্যালয়ের এক বছরের বিল ১২ হাজার টাকা। ১৯২টি বিদ্যালয়ের জন্য এক বছরে মোট বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ ৪ হাজার টাকা।
উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকেরা গত মে মাসে ইন্টারনেট বিলের ভাউচারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে জমা দেন। শিক্ষকদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়প্রতি ৮ হাজার টাকা করে চেক দেওয়া হলেও বাকি ৪ হাজার টাকা বিদ্যালয়গুলোর ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়নি।
উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নুরুন্নাহার বেগম, ডিঙ্গারহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান, বড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশ্রাব আলী, ফরিদপুর ইউনিয়নের মঙ্গলসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবায়দুলসহ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, চেক বইয়ে নির্ধারিত অঙ্কের টাকা লেখা থাকলেও চেক বিতরণের সময় বিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে নগদ ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। ১৯২টি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হলেও সংযোগের নামে বিদ্যালয়প্রতি ৩ হাজার ২০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১৯২টি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ টাকা।
শিক্ষকদের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাস্ক নেটওয়ার্ক কাজ পাওয়ার পর এস টি সি নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোতে সংযোগ দেওয়া হয়। এ কাজের তদারকির দায়িত্ব উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরকে (আইসিটি) দেওয়া হয়। সরকারি প্রকল্পের আওতায় সংযোগ স্থাপনের পরও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার নিয়ম, খাত ও ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরা।
তবে উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আসমা আক্তার মারিয়া বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেটের লাইন আগে থেকেই ছিল। নতুন করে লাইন সংযোগের জন্য কোনো টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাস্ক নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী নুর আলম সিদ্দিকীর বক্তব্য জানতে ০১৭১০৬৫৬৪০৩ নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ১৯২টি বিদ্যালয়ের চার মাসের নেটওয়ার্ক বিল তাঁর হিসাবে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষকরা বিল পরিশোধ না করলে ওই অর্থ ব্যবহার করা হবে।
তবে বিদ্যালয়প্রতি ৩ হাজার ২০০ টাকা করে সংযোগের অর্থ এবং চেক বিতরণের সময় ১ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘উপরের নির্দেশ আছে, এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া যাবে না।’
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। এখন আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদক- মোঃ জাহিদুল ইসলাম, বরিশাল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...