বিজ্ঞাপন
গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫টি উপজেলায় ২৪ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমিতে পাটের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও কৃষকেরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৮২৭ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ করেছেন। ফলে মোট ২৫ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমি থেকে ৫২ হাজার ৬৫৬ মেট্রিক টন পাট উৎপাদিত হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৬৯৬ টন বেশি। উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান জানান, প্রতি মণ পাট উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা। আর বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে প্রতি মণে চাষিরা নিট ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন। ভালো দামের এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে জেলায় পাটের আবাদ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
মৌসুমের আবহাওয়াও ছিল কৃষকের অনুকূলে। গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, চলতি মৌসুমে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার মাসে জেলায় মোট ১ হাজার ৩৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে—যার মধ্যে জুনে ১৯৪, জুলাইয়ে ৬৩৬, আগস্টে ৩৯০ এবং সেপ্টেম্বরে ১৩১ মিলিমিটার। পর্যাপ্ত এই বৃষ্টির কারণে চাষিদের এবার পাট পচানো বা জাগ দিতে কোনো বেগ পেতে হয়নি, যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে আঁশের গুণগত মানে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কাশিয়ানী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাটিয়াপাড়া হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পাট কেনাবেচার জমজমাট চিত্র। আড়তদার শামীম শেখ জানান, মৌসুমের শুরুতে মিলগুলো কেনাকাটা ও বকেয়া পরিশোধ স্থগিত রাখায় এবং মজুতদারদের অনীহার কারণে দাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় নেমে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে পাটকল ও পাইকাররা একযোগে ৪ হাজার ৭০০ থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকায় কেনা শুরু করায় বাজারে সরবরাহ ও বেচাকেনা দুটোই বেড়েছে।
নৌ, রেল ও সড়কপথের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও নড়াইলের মিলনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই ভাটিয়াপাড়া হাট। স্থানীয় পাট ও ভূঁষি মাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিয়ামূল হক শরীফ জানান, ১২০টি আড়ত ও প্রায় ১০০টি গুদামসমৃদ্ধ এই ঐতিহ্যবাহী হাটে শুক্র ও সোমবার ভোর থেকে সকাল ১০টার মধ্যেই ১ হাজার থেকে ২ হাজার মণ পাট বেচাকেনা হয়ে যায়। হাটে পাট নিয়ে আসা নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কৃষক মো. পান্নু শেখ এবং কাশিয়ানীর বরাশুর গ্রামের কৃষক মফিজুর রহমান শেখ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, নিজেরা মাঠে শ্রম দেওয়ায় উৎপাদন খরচ কম হয়েছে এবং মণপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা বাড়তি দাম পাওয়ায় তারা বেশ লাভবান।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...