তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র।
বিজ্ঞাপন
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মহুয়া মৈত্র বলেন, “ওরা শুধু বলে যাচ্ছে অনুপ্রবেশকারী, অনুপ্রবেশকারী। অথচ সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে বললেন, অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ভারতের জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। সেই সময় প্রথম সারিতে বসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাততালি দিচ্ছিলেন। আমি জানতে চাই, দেশের সীমান্ত রক্ষার কেউ নেই?”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্য দেশের মানুষ লাখে-লাখে প্রবেশ করছে, স্থানীয়দের জমি দখল করছে এবং নারী সমাজের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে। অথচ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করছে না।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টেনে মহুয়া মৈত্র বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশ। কিন্তু বর্তমান সরকার বাংলাদেশিদের ‘ডিমোনাইজ’ করছে। বিজেপি নেতারা বাংলাদেশের মানুষকে বদ-অসভ্য আখ্যা দিচ্ছেন। অথচ বাংলাদেশের মানুষ আমাদের ভাই-বোন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি শুধু মুসলমানদের টার্গেট করছে— “মিশন ডেমোগ্রাফি মানে হলো হিন্দু রাষ্ট্র গঠন করা। মুসলমান বা সংখ্যালঘু দেখলেই তাদের ওপর লাঞ্ছনা-বঞ্চনা করা হচ্ছে।”
সিএএ এবং এনআরসি নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন মহুয়া। তার ভাষায়, “সিএএ চালু হলো, কিন্তু এখন পর্যন্ত দুই হাজার লোকও আসেনি। ভোট সামনে এলেই আবার এই ইস্যুতে লাফালাফি শুরু হয়।”
মহুয়া মৈত্রর ওই মন্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক’ ও ‘বিতর্কিত’ দাবি করে বিজেপি তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে বলা হয়েছে, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য জাতীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলার জন্য হুমকি।
রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...