Logo Logo

নতুন বই পেয়ে সিলেটের শিক্ষার্থীরা আনন্দিত


Splash Image

নতুন বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই হাতে পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত সিলেটের শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকেই স্কুলমুখী হয়ে রঙিন মলাটের নতুন পাঠ্যবই বুকে জড়িয়ে ধরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় শিশু-কিশোরদের। কেউ কেউ খুশিতে উল্টে দেখছে বইয়ের পাতা, নতুন ক্লাসের স্বপ্নে চোখে-মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।


বিজ্ঞাপন


নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের সব বই এখনও পৌঁছায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ের শতভাগ বই ইতোমধ্যে বিতরণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত বছরের মতো এবারও বড় পরিসরে বই উৎসবের আয়োজন করা হয়নি। সিলেট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৩টি উপজেলায় বরাদ্দের শতভাগ বই সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। জেলার ১ হাজার ৪৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বরাদ্দের প্রায় ৮০ শতাংশ বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের আওতাধীন জেলার ২০০টি স্কুল ও ৬২টি মাদ্রাসায় বই বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বাকি বইও শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক আবু সায়ীদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “এ বছর আনুষ্ঠানিক বই উৎসব হচ্ছে না। বিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করবে।”

বৃহস্পতিবার সিলেটের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় জমতে শুরু করে। আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে নতুন ক্লাসে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট যাচাই করে শিক্ষকরা তাদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেন।

নতুন বই হাতে পেয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অভিভাবকরাও আশা প্রকাশ করেন, নতুন বই শিশুদের পড়াশোনায় নতুন উদ্যম ও আগ্রহ তৈরি করবে।

সিলেট বিভাগের চার জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ১৬ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮ লাখ ৮৫ হাজার ২৩টি বই বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ২ লাখ ২৫ হাজার, প্রথম শ্রেণিতে ২ লাখ ৯৯ হাজার, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২ লাখ ৯০ হাজার, তৃতীয় শ্রেণিতে ২ লাখ ৭০ হাজার, চতুর্থ শ্রেণিতে ২ লাখ ৮০ হাজার এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ২ লাখ ৬৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

জানা গেছে, সিলেট বিভাগের সাড়ে ১৬ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত ৫৮ লাখ ৮৫ হাজার ২৩টি বইয়ের বিপরীতে শতভাগ বই আগেই স্ব স্ব উপজেলায় পৌঁছে গেছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৫৮ লাখ ১২ হাজার ২৪৪টি এবং ইংরেজি ভার্সন স্কুলের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৭২ হাজার ৭৭৯টি বই রয়েছে।

এদিকে, সিলেট বিভাগের মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল পর্যায়ের ১২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর জন্য মোট ১ কোটি ৩২ লাখ ২৬ হাজার ৮১৯টি বইয়ের চাহিদা থাকলেও এখন পর্যন্ত পৌঁছেছে ৯৬ লাখ ৮৫ হাজার ১১৬টি বই। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্কুলের জন্য ৮৫ লাখ ৬৪ হাজার ১৬৭টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পৌঁছেছে ৫৪ লাখ ৯৬ হাজার ১০৯টি বই। মাদ্রাসার ৪৪ লাখ ৩২ হাজার ৪৭০টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ৪০ লাখ ৪০ হাজার ৭১৯টি বই। ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার ১৮২টি বইয়ের বিপরীতে পৌঁছেছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৯৮টি বই।

সব মিলিয়ে সিলেট অঞ্চলে মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল পর্যায়ের বই সরবরাহের হার প্রায় ৬৯ শতাংশ। ফলে এখনও প্রায় ৩১ শতাংশ বই না পাওয়ায় সিলেট অঞ্চলের ১২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব পাঠ্যবই থেকে বঞ্চিত থাকছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...