বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীদের মতে, চব্বিশ-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে তাঁরা এমন একটি নির্বাচন চান যেখানে ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটবে এবং প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুহম্মদ শাহিন বলেন, "আমরা একটি আদর্শ নির্বাচন দেখতে চাই যেখানে সর্বোৎকৃষ্ট স্বচ্ছতা ও ভোটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কেন্দ্র দখল ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করে জনগণের সরকার কায়েম করতে হবে।"
একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ বিপ্লব বলেন, প্রশাসনকে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে পূর্ণ সক্ষমতা দেখাতে হবে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তার বলয়ে ঢেকে দিতে হবে। পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার বলেন, "আমি এমন একটি নির্বাচন চাই যেখানে ফলাফল বিশ্বাসযোগ্য হবে। আমরা সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব চাই যারা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণে কাজ করবেন।"
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাঃ নাকিবা আনোয়ারী রিয়া মনে করেন, নির্বাচন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি গণতন্ত্রের প্রাণ। দৃশ্যমান উন্নয়ন ও জনগণের নিরাপত্তাকেই আগামী নির্বাচনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিগত তিনটি নির্বাচনের অনিয়মের কথা স্মরণ করে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির আহম্মেদ জিসান বলেন, "জেন-জি প্রজন্ম এখন পর্যন্ত পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। মৃত মানুষের ভোট দেওয়া বা প্রশাসনের মদদে ভোট চুরির যে জঘন্য কালচার আমরা দেখেছি, তার অবসান চাই। আমরা তথাকথিত সুঠুর পরিবর্তে একটি প্রকৃত নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।"
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী গালিব তাঁর উদ্বেগ ও আশা প্রকাশ করে বলেন, "শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজের ভোট নিজে দিতে চাই। দল নয়, বরং ব্যক্তিকে বিবেচনা করে ভোট দিব। নির্বাচনের পর যেন মানুষের কষ্ট লাঘব হয় এবং স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকে।"
ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফখরুদ্দীন তারেক এবং একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিম আলমাস উভয়েই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট দলের হবে না, বরং আইনের অনুসারী হবে।
ফিলোসফি বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার সায়েম বলেন, ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই জনগণের বাস্তব মতামতের প্রতিফলন ঘটা সম্ভব।
সার্বিকভাবে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই মতামত থেকে স্পষ্ট যে, তারা একটি বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ এবং প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একটি নিখুঁত নির্বাচনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...