বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে ফুটপাত দখলের চিত্রনগরের বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দেওয়ানহাট, পোস্তারপাড় মোড়, আন্দরকিল্লা, সিরাজউদ্দৌল্লা রোড, দেওয়ান বাজার, চকবাজার, বহদ্দারহাট, জিইসি মোড় এবং নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতগুলো এখন আর পথচারীদের নিয়ন্ত্রণে নেই। কোথাও শাকসবজি, ফলমূল, আবার কোথাও কাপড়, জুতো ও কসমেটিকস বিছিয়ে পুরোদস্তুর বাজার বসানো হয়েছে। অনেক স্থানে আবার শুধু হকার নয়, স্থায়ী দোকানদার ও বিভিন্ন শোরুমের মালিকেরাও তাদের মালামাল ফুটপাতে স্তূপ করে রেখে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন। চকবাজারের তেলিপট্টি মোড় এবং মোমিন রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্যানিটারি সামগ্রী ও ফার্নিচার রেখে ফুটপাতগুলোকে রীতিমতো ব্যক্তিগত শো-রুমে পরিণত করা হয়েছে।
যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে নগরবাসীফুটপাত সম্পূর্ণ বেদখল হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী, শিশু ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের মূল সড়ক দিয়ে যানবাহন ঘেঁষে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াজ উদ্দিন বলেন, "ফুটপাত তৈরি করা হয়েছে মানুষের হাঁটার জন্য, কিন্তু চট্টগ্রামের ফুটপাতে পা ফেলার জায়গা নেই। সব জায়গায় দোকানপাট বসে আছে। বাধ্য হয়ে আমাদের মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়, যার কারণে সবসময় গাড়ির নিচে চাপা পড়ার আতঙ্ক তাড়া করে।" অন্যদিকে মূল সড়কের একাংশ হকারদের দখলে থাকায় এবং ক্রেতাদের জটলার কারণে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দিনভর স্থবির যানজট লেগেই থাকছে।
চসিকের সাম্প্রতিক অভিযান ও 'আমাদের চট্টগ্রাম' অ্যাপজনভোগান্তি লাঘবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান জোরদার করেছে। অতি সম্প্রতি চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত দেওয়ানহাট পোস্তারপাড় মোড়ে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা প্রায় ৪০টি অবৈধ দোকান গুড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া গত ২ সেপ্টেম্বর নগরের আলকরণ, নিউমার্কেট মোড় ও পাথরঘাটার পুরাতন ফিশারঘাট এলাকায় চসিকের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চসিকের নিজস্ব নাগরিক সেবা প্ল্যাটফর্ম 'আমাদের চট্টগ্রাম' অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সাম্প্রতিক অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়েছে। নগরের এনায়েত বাজার ও দেবপাহাড় এলাকাতেও অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্ছেদ চালিয়ে রাস্তা ও ওয়াকওয়ে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
উচ্ছেদ ও পুর্নদখলের কানামাছি খেলাতবে সচেতন নগরবাসীর অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের এসব অভিযান যেন সাময়িক নাটক মাত্র। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রশাসন চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হকাররা আবারও পুরো রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বসে পড়ে। এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের মদদ ও শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে চসিকের শত চেষ্টার পরও স্থায়ীভাবে ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না।
স্থায়ী সমাধানের দাবিনগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশিষ্টজনদের মতে, শুধু সাময়িক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এই প্রাচীন সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, নান্দনিক ও পথচারীবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ফুটপাত ও সড়ক চিরতরে দখলমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে চসিক এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশকে (সিএমপি) সমন্বিত ও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। একই সাথে ভাসমান হকারদের তালিকাভুক্ত করে তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে (যেমন নৈশকালীন বাজার) বা নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসার সুযোগ দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট হকার পুনর্বাসন নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষের চলার অধিকার এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকা—উভয়েরই ভারসাম্য বজায় থাকে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...