বিজ্ঞাপন
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে শুভ বৈরাগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা।
শুভ বৈরাগী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী গ্রামের প্রয়াত সুখলাল বৈরাগী ও শেফালী বৈরাগী দম্পতির সন্তান। শৈশবেই বাবা-মাকে হারিয়ে বোন ও ভগ্নিপতির আশ্রয়ে বেড়ে ওঠেন তিনি।
মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নিজের এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে প্রেমিকার পরিবারের নির্যাতন, সামাজিক অপমান ও মানহানিকে দায়ী করে যান শুভ। ১ জানুয়ারি তিনি ওই স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এরপরই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন।
ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কোটালীপাড়া উপজেলার কাফুলাবাড়ি গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে শুভ বৈরাগীর দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে ওই তরুণীর জন্মদিন উপলক্ষে তাকে সরাসরি শুভেচ্ছা জানাতে তাদের বাড়িতে যান শুভ। এ সময় তরুণীর পরিবারের সদস্যরা তাকে ধরে ব্যাপক মারধর করে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় নির্যাতন চালায়।
শুভর অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পর্কের কথা স্বীকার করার পরও তরুণীর জেঠা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং জোরপূর্বক একটি ‘মিথ্যা ভিডিও’ ধারণ করে। ওই ভিডিওতে তাকে দিয়ে স্বীকার করানো হয় যে, তিনি ওই বাড়িতে ‘চুরি’ করতে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ওই চুরির অপবাদ তার নিজ এলাকায় ছড়িয়ে দিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে শুভ লিখেছেন, “তারা সত্যকে আড়াল করে আমাকে মিথ্যা চোর অপবাদ দিয়ে সকলের কাছে দোষী করেছে। এতে আমার মানসম্মান নষ্ট হয়েছে। আমি কারো সামনে মুখ দেখাতে পারবো না। তারা আমাকে জানে মারার চেয়েও বেশি মেরে ফেলেছে।”
তিনি আরও লেখেন, আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় প্রেমিকার পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। টাকা আজ নেই, কাল হতে পারতো—এমন মন্তব্য করে শুভ উল্লেখ করেন, কিন্তু এমন অপমানের পর তার পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। নিজের মৃত্যুর জন্য তিনি প্রেমিকা, তার বাবা, কাকা ও জেঠুকে সরাসরি দায়ী করে যান।
শুভ বৈরাগীর অকাল মৃত্যুতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের এই শিক্ষার্থীর এমন করুণ মৃত্যু তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...