বিজ্ঞাপন
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট নিউজ’সহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘ সময় ধরে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নিহতের পরিসংখ্যানকে হামাসের প্রচারিত 'অনির্ভরযোগ্য তথ্য' বলে দাবি করে আসছিল ইসরায়েল। যদিও জাতিসংঘ শুরু থেকেই ফিলিস্তিনিদের দেওয়া তথ্যকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছিল। এখন খোদ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীই প্রায় একই ধরনের নিহতের হিসাব মেনে নিল।
একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজারের কাছাকাছি। তবে এই তালিকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক এবং কতজন সশস্ত্র যোদ্ধা, তা নিরূপণে সেনাবাহিনী বর্তমানে কাজ করছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৭১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকে নতুন করে আরও ৪৮০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
গাজা কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহতদের একটি বিশাল অংশই নারী ও শিশু। এছাড়া অসংখ্য মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন, যাদের এই পরিসংখ্যানের বাইরে রাখা হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এই স্বীকারোক্তি এমন এক সময়ে এল যখন গাজায় শত শত কবর ধ্বংস করার ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই নিজস্ব স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যার বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে। তবে এই বিশাল প্রাণহানির ঘটনা গাজার মানবিক বিপর্যয়কে বিশ্ব দরবারে নতুন করে এক ভয়াবহ রূপ দিয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...