বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই বিশাল সামরিক চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
মার্কিন প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলার মূল্যের ৩০টি অত্যাধুনিক ‘অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার’ সরবরাহ করা হবে। এর পাশাপাশি ১৮০ কোটি ডলার মূল্যের ‘জয়েন্ট লাইট ট্যাকটিক্যাল ভেহিকল’ বা আধুনিক বহুমুখী হালকা সামরিক সাঁজোয়া যানও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একটি শক্তিশালী আত্মরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করা মার্কিন জাতীয় স্বার্থের জন্য অপরিহার্য।
একই সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আকাশপথের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের কাছে ৯০০ কোটি ডলার মূল্যের ৭৩০টি ‘প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র’ বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মূলত ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতেই রিয়াদকে এই উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও ফিলিস্তিন ইস্যু ও গাজা যুদ্ধের কারণে রিয়াদ-তেল আবিব সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া বর্তমানে থমকে আছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তার উভয় মিত্রকেই সামরিকভাবে শক্তিশালী করতে সমান তৎপরতা দেখাচ্ছে।
বর্তমানে গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে। ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্যমতে, গাজা যুদ্ধবিরতি এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে যেখানে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৭১ হাজার ৬৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা এবং তেহরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে মার্কিন এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই বিশাল অস্ত্র সরবরাহ মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি ইরানের মিত্রদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: এএফপি এবং রয়টার্স
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...