বিজ্ঞাপন
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল জান্তা সরকার। সেই অনুযায়ী গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ‘সুষ্ঠু পরিবেশ নেই’ অজুহাতে ১২১টি আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছিল। গত ২৫ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত গণনায় দেখা গেছে, জান্তা সমর্থিত দল 'ইউনিয়ন অ্যান্ড সলিডারিটি পার্টি' (ইউএসডিপি) এই নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে।
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনের পুরো সময়কালে বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মিয়ানমারের বিমান বাহিনী অন্তত ৫০৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব অভিযানেই ১৭০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের মিয়ানমার শাখার প্রধান জেমস রোডেহ্যাভের বলেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই বিমান অভিযান ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, নিহতদের মধ্যে নির্বাচনের কয়েকজন প্রার্থীও রয়েছেন।
এই নির্বাচনকে ‘ভুয়া এবং সামরিক বাহিনীর সাজানো নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার এই প্রচেষ্টাকে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে।
মিয়ানমারের এই নির্বাচন ও ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নতুন করে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...